মাদ্রিদে শুরু হওয়া দু’সপ্তাহের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে আলোচনায় বসেছেন রাজনীতিবিদ ও জলবায়ু বিষয়ক কূটনীতিকরা।

বৈঠকের প্রারম্ভেই জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জলবায়ু পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে সেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, “আমরা খুব দ্রুতই এমন এক দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যেখান থেকে ফিরে আসার আর পথ নেই। আমরা এরই মধ্যে জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি হয়েছি এবং জলবায়ু পরিবর্তন থেকে ফিরে আসতে না পারার অবস্থায় পৌঁছে যাওয়াটা এখন আমরা দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছি। সেদিন এখন আর খুব বেশি দূরে নেই।”

বিশ্বব্যাপী দাবানল থেকে শুরু করে বন্যার মত চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া মনুষ্যসৃষ্ট বিশ্ব উষ্ণায়নেরই ফল। ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে, জালুবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাবে আফ্রিকায় মানুষ অনাহারে আছে। সাইক্লোন এবং খরার কারণে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে আছে বলে জানিয়েছে দাতব্য সংস্থাটি।

কার্বন ডাই অক্সাইডের মত গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের কারণে বিশ্বের ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা দ্রুতই বেড়ে যাচ্ছে। মনুষ্যসৃষ্ট এ জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর সময় দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া কপ-২৫ জলবায়ু সম্মেলনে সব দেশই যাতে তাদের কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা বাড়ায় সে চেষ্টাই চলবে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত তিনটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ সম্মেলনের আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই প্রতিবেদনগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বিপজ্জনক জলবায়ু পরিবর্তনের হ্রাস টেনে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে এক বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বলেছেন, জলবায়ু সংকট আসন্ন এবং রাজনৈতিক নেতাদেরকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, “সামনের ১২ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানো অবিলম্বে শুরু করতে বিশেষ করে কার্বন নির্গমনকারী প্রধান দেশগুলোর আরো উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্যমাত্রা পূরণের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাটা জরুরি।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য