ছাব্বিশ বছর বয়সী এক নারী পশুচিকিৎসককে হত্যার ঘটনায় ভারতের তেলেঙ্গানাজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ চলছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে হায়দরাবাদের কাছে ওই চিকিৎসকের পোড়া মৃতদেহ পাওয়া যায়; হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার ভারতের মধ্যদক্ষিণের এ রাজ্যটিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইছে।

তেলেঙ্গানা পুলিশের বিরুদ্ধে নারী পশুচিকিৎসককে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় করা মামলা নিয়ে উদাসীনতারও অভিযোগ এনেছে তারা।

মামলার অভিযোগ দায়েরে গাফিলতির অভিযোগ ওঠা তিন পুলিশ সদস্যকে এরই মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।

“বিস্তৃত তদন্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সাব ইন্সপেক্টর এম রবি কুমার, দুই হেড কনস্টেবল পি ভেনু গোপাল রেড্ডি ও এ সত্যনারায়ণ গৌড়কে বরখাস্ত করা হয়েছে,” সাইবেরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভিসি সাজ্জানার এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে এএনআই।

হত্যা-ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ট্রাকচালক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তাদের প্রত্যেকের বয়স ২০ এর ঘরে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

অভিযুক্তদের যে থানায় রাখা হয়েছে, কয়েক হাজার মানুষ শনিবার সেই শাদনগর থানা অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ পরে লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধদের থানার আশপাশ থেকে সরিয়ে দেয়।

বিক্ষোভ হয়েছে হায়দরাবাদেও। প্রতিবাদকারীরা এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

নয়া দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের বাইরেও এক নারী ‘নিজের দেশেই আমি নিরাপদ নই কেন’ লেখা প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বাড়ি ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোর পর পুলিশ তাকে জোর করে সরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আনু দুবে নামের ওই নারী।

তেলেঙ্গানার পশু চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডে শোক জানিয়েছেন রাজনীতিকরাও।

“কীভাবে একজন অন্য আরেকজনের এমন অবস্থা করতে পারে, উসকানি ছাড়াই এমন সহিংসতা, চিন্তার বাইরে পৌঁছে গেছে,” বলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

শনিবার তেলেঙ্গানার গভর্নর তামিলিসাই সুন্দরারঞ্জন ও ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেনের (এনসিডব্লিউ) একটি প্রতিনিধি দল হায়দরাবাদে নিহত নারীর আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ করছেন। তাদের থানার এলাকা নয়, এ কথা বলে তাদেরকে এক থানা থেকে অন্য থানায় পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তারা।

গ্রেপ্তার সন্দেহভাজনদের আইনি সহায়তা না দেওয়ারও দাবি করছেন তারা।

পরিবারের সদস্যরা যখন নারী চিকিৎসকের নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করে, তখন তেলেঙ্গানার পুলিশ তাতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী কিষাণ রেড্ডি।

নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যার মামলাটি পুলিশ মাহবুবনগরের দ্রুত বিচার আদালতে তুলতে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তারাও গ্রেপ্তার সন্দেহভাজনদের সর্বোচ্চ শাস্তিই চাইবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা বুধবার রাতে ঘণ্টাখানেক সময়ের মধ্যেই ধর্ষণ ও হত্যার পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করে বলে ভাষ্য পুলিশের। অভিযুক্তরা পরে রাত আড়াইটার দিকে চাত্তানপালির একটি কালভার্টের নিচে মৃতদেহে আগুন দেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শামসাবাদ টোল গেট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ওই নারী চিকিৎসক তার বোনকে ফোনে আশপাশের কিছু লোকের সন্দেহজনক আচরণের কথা বলেছিল।

হত্যা-ধর্ষণের আগে নারী চিকিৎসকের দ্বিচক্রযানের টায়ার পাংচার করে দিয়ে অভিযুক্তরা তাকে ফাঁদে ফেলেছিল বলে অনুমান পুলিশের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য