মোঃ জাকির হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মানে অত্যন্ত নি¤œ মানের ইট গুড়িয়া ও শাল্টি ইট ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেলপুকুর তিনপাই হুগলিপাড়া এলাকায় নির্মিয়মান এ রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ সিডিউল মেনে কাজ করা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো রাস্তা জুড়ে ইটের খোয়া বিছিয়ে যে স্তর দেয়া হয়েছে তাতে খোয়ার বদলে শুধু ইটের গুড়াই চোখে পড়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার পাশে বিছানো ইটগুলোর নিচে মাটি না থাকায় তা এখনই হেলে পড়েছে। কোথাও কোথাও ইট খুলে পড়ে গেছে। পাথরের ঢালাই তথা ২৫ মিলি উচ্চতার পাথর দেওয়ার কথা থাকলেও ২০ মিলি এর বেশি কোথাও পাওয়া যায়নি। এমনকি পাথরগুলোতে পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। ঢালাইয়ের পর বালু ছিটানো হয়নি। কোন রকমে প্রলেপ দিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসী অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই রাস্তার কা যে ঠিকাদার করছে তিনি স্থানীয় একটি ইট ভাটার মালিক হওয়ায় তার ভাটার সর্বনি¤œমানের ইট ব্যবহার করেছে। যেমনটি ইতোপূর্বে তিনপাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে তোফায়েলের মোড় এলাকার আব্দুর রহিমের পুকুর পর্যন্ত যে রাস্তাটি করা হয়েছিল। এই ঠিকাদার করায় রাস্তাটির মান ঠিক ছিলনা। একারণে মাত্র ১ বছরের মধ্যেই রাস্তাটির মাঝখানে ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার মাঝখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশের ইটগুলো মাটি দিয়ে চাপা না দেওয়ায় সেগুলো ভেঙ্গে পড়েছে এবং রাস্তার অনেকাংশেই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

এমতাবস্থায় এলাকাবাসী রাস্তার নির্মাণের যথাযথ সিডিউল মেনে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা যায়, প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যায়ে এলজিইডি’র অধীনে রাস্তাটির কাজ করা হচ্ছে। ২০১৬ ইং সালের টেন্ডারকৃত এই রাস্তার কাজ দীর্ঘ ৪ বছর পর করা হচ্ছে। রাস্তাটি যেমন যথাসময়ে করা হয়নি তেমনি যথানিয়মেও করা হচ্ছেনা। একারণে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে রাস্তাটি বেশি দিন টিকবেনা। আগামী বর্ষা পর্যন্ত রাস্তার মেয়াদ হবেনা বলেই তাদের আশঙ্কা।

এ ব্যাপারে রাস্তার কাজ সম্পাদনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনোয়ার হোসেন জানান, কাজটি করতে গিয়ে আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। তারপরও ২০১৬ সালের কাজটি করতে বাধ্য হয়েছি। কোথাও অনিয়ম করা হয়নি। তবে মনে হলে আপনার লিখতে পারেন।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রায়হানুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুর উপজেলা এমনিতে কাজের সংখ্যা কম। তাছাড়া পূর্বের রেটে পাওয়া কাজ ঠিকাদাররা করতে চান না। মনোয়ার সাহেব স্থানীয় ব্যক্তি হওয়ায় তাকে অনেক অনুরোধ করে কাজটি করাচ্ছি। শতভাগ নিয়ম মেনে কোন কাজই করা সম্ভব হয়না। তারপরও একাজটি সঠিকভাবে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য