দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জে ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। শীতের সন্ধ্যায় পিঠাপুলি বাঙালিদের একটি প্রিয় মুখরোচক খাবার। তাই শীতের দিনে ফুটপাতের দোকানের চিত্রও পাল্টে যায়। ক্রেতাদের চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে পিঠা বিক্রেতারাও খাবার মেনু পাল্টান।

বীরগঞ্জ পৌরশহরের বিভিন্ন জায়গায় শীতের সঙ্গে ফুটপাত শোভা পাচ্ছে পিঠাপুলির দোকান। শীতের রাতে সব থেকে জনপ্রিয় ভাপা ও চিতই পিঠা। বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে,গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগম স্থানে বসেছে এমন পিঠাপুলির দোকান।

মূলত ফুটপাতজুড়ে রয়েছে শীতের আগমন বার্তা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার আগেই পিঠা বিক্রেতারা সাজিয়ে ফেলেন দোকান। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা সামনেই তৈরি করা গরম পিঠাপুলি পরিবেশন করছেন পৌর হাটখোলায় মোঃ শাহাদাত ও তার পরিবার।

প্রায় প্রতিটি দোকানেই সন্ধ্যার পরে ক্রেতা সাধারণের ভিড় বেড়ে যায়। এভাবে পিঠাপুলি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন ফুটপাতের মৌসুমি বিক্রেতা। কার্তিক মাসের বিদায় লগ্নে সন্ধ্যা নামতেই উত্তরাঞ্চলের প্রকৃতিতে উঁকি দিচ্ছে শীত।

শীতের সঙ্গে বীরগঞ্জের বিভিন্ন ফুটপাতে হরেক রকমের পিঠাপুলি নিয়ে বসেছেন মৌসুমী বিক্রেতারা। সরেজমিনে দেখা যায়, বীরগঞ্জ পৌরশহরের তাজ মহল সিনেমার সামনে, স্লুইসগেট রোড, বিজয় চত্বর,বলাকা মোড়, উল্লাস সিনেমা হলের সামনে, এমন পিঠাপুলি নিয়ে বসেছে বিক্রি করছে।

তাজ মহলের সামনে পিঠাপুলি বিক্রেতা মোছিরত বেউফা জানান, চলতি সময়ে হাতে কাজ নেই। শীত এসেছে তাই সংসারের খরচ মিটাতে ফুটপাতে পিঠার দোকান দিয়েছেন। দিনভর বাড়তে চালের আটাসহ পিঠা তৈরি নানান সরঞ্জাম প্রস্তুত করে বিকালে দোকান চালু করেন।

সেখানে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের সামনে গরম গরম ভাপা, চিতাই সহ বিভিন্ন ধরণের পিঠা বিক্রি করেন। পিঠা বিক্রির পাশাপাশি সেদ্ধ ডিম বিক্রেতা সুরুজ মিয়ার ব্যবসাও বেশ জমে উঠেছে। ডিম বিক্রেতা সুরুজ জানান, ক্রেতাসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী সেদ্ধ ডিম বিক্রি করেন তিনি।

সন্ধ্যা থেকে ভিড় বাড়লেও মধ্যরাতের আগে থেকে দোকান বন্ধ করেন তিনি। তার পাশের আরেক ডিম বিক্রেতা মানিক সাহা জানান,প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেন। যাহা দিয়ে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে সংসার চলে। তবে শীত চলে গেয়ে তিনি অন্য পেশায় চলে যাবেন বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য