পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসনে উপ-নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। চূড়ান্ত ফল ঘোষিত না হলেও বৃহস্পতিবার কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমালোচনা করেছেন তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি দাবি করেছেন, এই পরাজয় বিজেপির অহংকার ও ঔদ্ধত্যের রাজনীতির। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এখবর জানা গেছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থানে মমতা বেশ চাপে ছিলেন। উপ-নির্বাচনে তিনটি আসনেই জয় পেতে যাচ্ছে তৃণমূল। সোমবার খড়গপুর, করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে খড়গপুর ও কালিয়াগঞ্জে প্রথমবারের মতো জয় পেতে যাচ্ছে মমতার দল।

মমতা দাবি করেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নে এনআরসির পক্ষে কথা বলার কারণেই বিজেপির পরাজয় হয়েছে। তিনি বলেন, এতো ঔদ্ধত্য ও অহংকার ভালো না। বিজেপি খুব বেশি ঔদ্ধত্য ও অহংকারী। কখনও তারা এনআরসির কথা বলে, কখনও তারা মানুষকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে এবং পরে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলে। যেনও জমিদারি ওদের। নাগরিকত্ব দেওয়ার ওরা কে? এমনিতেই তো সবাই এ দেশের নাগরিক।

মমতা আরও বলেন, উপ-নির্বাচনের ফলের বার্তা পরিষ্কার, লোকজন বিজেপিকে বিদায় বলছে। বিজেপির ফিরে যাওয়া উচিত।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি এর আগে কালিয়াগঞ্জের রাজবংশীদের ভুল বুঝিয়েছিল। কিন্তু এবার আর তারা বিজেপি-র ফাঁদে পা দেননি। তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। খড়গপুরে অবাঙালিরা আমাদের প্রচুর ভোট দিয়েছেন। সব ধর্ম, জাতি ও ভাষাভাষি মানুষ যে তৃণমূলের পাশে রয়েছেন, আমাদের সমর্থন করছেন তা এই ভোট ফলাফলে পরিষ্কার। এই জয় তাই মানুষের জয়।

করিমপুরে তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে শাসক দলের নেতারা মোটামুটি আগেই নিশ্চিত ছিলেন। করিমপুর ২ নম্বর ব্লক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। কিন্তু কালিয়াগঞ্জে তাদের জয় অপ্রত্যাশিত। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটেও কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেসের কাছে ৪৬ হাজার ভোটে হেরেছিল দলটি। ২০১৯ সালের লোকসভায় তৃণমূল সেখানে পিছিয়ে ছিল ৫৬ হাজারেরও বেশি ভোটে।

খড়গপুড় বিধানসভা আসনও অধরা ছিল তৃণমূলের কাছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে খড়গপুরে জিতেছিল বিজেপি। লোকসভায় সেখানে ৪৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানের জিতেছিল গেরুয়া শিবির।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য