কেবল না খেয়ে থাকা মানেই কিন্তু ডায়েট নয়! ভারতীয় পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহ মনে করেন, আজকাল সোশ্যাল সাইট দেখে ডায়েট শুরু করার ফলে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। শরীরের ওজনই শুধু নয়, ডায়েট নির্ণয়ের সময় শরীরের বিপাক হার, অন্য কোনও অসুখ রয়েছে কি না- এমন অনেক কিছুই খেয়াল রাখতে হয়। ডায়েট বাছাই বা পালন করার মধ্যেই থেকে যায় নানা ভুল, ফলে দীর্ঘদিনের ডায়েটে ওজন তো কমেই না, উল্টো বেড়ে যায় মাঝে মাঝেই! ডায়েট শুরু করার পর তাই ভুল রুখতে খেয়াল রাখতে হয় বেশ কিছু বিশেষ দিকে। তবেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। ডায়েট মানার সময় কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেবেন, জানালেন সুমেধা।

  • বয়স, ওজন, শরীরের রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে তবেই নিজের জন্য উপযুক্ত ডায়েট প্ল্যান নির্ধারণ করতে হবে। কোনও অনলাইন সাইটের পক্ষে এত কিছু জেনে আপনার ডায়েট চার্ট বানানো সম্ভব নয়। এছাড়া সব ডায়েট সব শরীরের উপর কার্যকরী হয় না। তাই এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • ওজন কমানো একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। কোনও ডায়েট প্ন্যানই সহজেই আপনার ওজন অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে না। যদি আনেও, তবে তা শরীরের কিছু ক্ষতি করে। তাই তেমন ডায়েট প্ল্যান থেকে দূরেই থাকুন।
  • আপনার ডায়েট প্ল্যান যদি অতিরিক্ত খরচসাপেক্ষ হয়, তা হলে সেই ডায়েট মানার কোনও মানেই হয় না। দামি সাপ্লিমেন্ট খেলে তবেই আপনার ওজন হ্রাস হবে এমনটাও দাবি করে অনেক অনলাইন সাইট। বাস্তবে সুস্থ শরীরে সাধারণ ডায়েট মেনে চলার পাশাপাশি যদি শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ওজন কমতে বাধ্য। দরকার শুধু একটু ধৈর্য্যের।
  • এমন অনেক ডায়েট প্ল্যান আছে যা আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য একেবারেই পরিত্যাগ করতে বলে। অথচ প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট সবরকম খাবারই অল্পস্বল্প হলেও শরীরে প্রয়োজন। দীর্ঘদিন যাবত এই ধরনের ডায়েট প্ল্যান আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আপনাকে অনেকটা ভুগতে হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই গ্রহণ করুন যে কোনও ডায়েট।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য