ডি আর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে উগান্ডা সীমান্তের কাছে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছে।

বুধবার রাতে ওইচা শহরের নিকটবর্তী বনাঞ্চলীয় গ্রাম মালেকিতে হামলার এ ঘটনা ঘটে, বেনি অঞ্চলের প্রশাসক ডোনাট কিবউয়ানার বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হামলার জন্য অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (এডিএফ) দায়ী করেছেন কিবউয়ানা।

এডিএফ উগান্ডার একটি ইসলামপন্থি গোষ্ঠী হলেও গত কয়েক দশক ধরে কঙ্গোতে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। গত মাসে কঙ্গোর সেনাবাহিনীর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, তারপর থেকে এডিএফের জঙ্গিরা ১৪ বার হামলা চালিয়ে অন্তত ৮০ জনকে হত্যা করেছে।

কিবউয়ানা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১৯ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, ঘটনাস্থলে ফিরলে ফের হামলার শিকার হতে পারে বলে শঙ্কিতবোধ করছে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

“অনুসন্ধান চলতে থাকায় নিহতের এ সংখ্যা প্রাথমিক বলেই গণ্য করতে হবে,” ফোনে রয়টার্সকে বলেছেন তিনি।

মন্তব্যের জন্য এডিএফের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এর আগে এডিএফের বেশ কয়েকটি হামলার দায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) স্বীকার করেছিল, কিন্তু গোষ্ঠী দুটির ঘনিষ্ঠতার মাত্রা অজানাই রয়ে গেছে।

এডিএফের ধারাবাহিক হামলার মুখে সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ওইচা থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর বেনিতে বিক্ষোভ করেছে তারা। লোকজনকে রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘ বাহিনী যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

চলতি সপ্তাহে বেনি ও নিকটবর্তী বুতেমবোতে প্রতিবাদ চলার সময় অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেনিতে প্রতিবাদ চলার সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর এক সদস্য মলোটোভ ককটেল নিক্ষেপ করতে থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে, বুধবার রাতে জানিয়েছেন জাতিসংঘের এক মুখপাত্র।

বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বলেছে, তাদের বাহিনীগুলো স্থানীয় লোকজনের হামলার মুখে থাকলে তাদের পক্ষে এডিএফের সহিংসতা দমন করা সম্ভব নাও হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য