এ কথা অস্বীকার করে কোনও লাভ নেই যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আমাদের দেশে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের পদ্ধতি খানিকটা হলেও তার জন্য দায়ী। ইদানীং তো দেখা যাচ্ছে যে এ দেশের গ্রামে-গঞ্জেও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে। কেন এমনটা হচ্ছে? একটু তলিয়ে ভাবলেই বুঝতে পারবেন যে, সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বদল এসেছে আমাদের জীবন যাপনের পদ্ধতিতেও।

আগের চেয়ে আমাদের হাঁটাচলা অনেকটাই কমেছে, উলটে টিভি বা মোবাইলে আমরা অনেক বেশিক্ষণ বুঁদ হয়ে থাকি। বাচ্চাদেরও খেলাধুলোর জন্য যথেষ্ট সময় নেই, তারাও চিপস-কেক হাতে নিয়ে ভিডিয়ো গেম খেলতে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করাটা খুব মুশকিলের। ফর্টিস হাসপাতাল আনন্দপুরের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত কনসালট্যান্ট ডা. জয়দীপ ঘোষ বলছেন, ‘‘এ কথা ঠিক যে বাঙালিদের সারাদিন ধরে কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার একটা অভ্যেস আছে, তার ফলে খাওয়ার পর রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা একটু বেশিই বেড়ে যায়। এই ধরনের সমস্যার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য একদম আলাদা প্ল্যানিংও প্রয়োজন।’’

যাঁরা ডায়াবেটিস থেকে নিজেকে ও প্রিয়জনদের দূরে রাখতে চান, তাঁদের ডায়েট সেট করার আগে কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিত। কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাট একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, দুম করে ভাত ছেড়ে রুটি খাওয়া শুরু করার প্রয়োজনও নেই। তবে কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। ময়দা বাদ দিন প্রথমেই, বিস্কিট, কেক জাতীয় খাবার বাড়িতে আনারই প্রয়োজন নেই। কর্নফ্লেক্স চলবে, তবে প্যাকেটের রেডি টু ইট ভার্সন থেকে দূরে থাকতে পারলেই ভালো হয়।

তার চেয়ে রোলড ওটস স্বাস্থ্যকর অপশন, তা দুধে ফুটিয়ে খেতে পারেন। মোটা ধানের চিড়েও খাওয়া যায়। তবে ওটস বা চিড়ের পরিমাণ কম রাখুন, পেট না ভরলে একটা ফল মিশিয়ে নিন খাবারে। ডিম সেদ্ধ খেতে পারেন, দূরে থাকুন ভুজিয়া বা অমলেট থেকে। দুপুরে ভাত খান, তবে এক কাপের বেশি নয়। ডাল, শাকসবজি, তাজা স্যালাড দিয়ে পেট ভরান। রান্নায় অতিরিক্ত তেল বা মশলা চলবে না। সিম্পল, চটপট রান্না হয় ও হজমে অসুবিধে হয় না এমন পদ বেছে নিন। সমস্ত মরশুমি ফল চলবে। চলবে ছোট মাছ, মুরগি। বাদ দিন বাইরে খাওয়া। খুব বেশি মিষ্টি না খেতে পারলেও ভালো হয়। বেলা যত গড়াবে, তত ছোট হবে আপনার মিলের সাইজ়। আর রাতে ঘুমনোর অন্তত দু’ ঘণ্টা আগে ডিনার সেরে ফেলতে হবে – এই সার সত্যটি কখনও ভুলবেন না।

সেই সঙ্গে জোর দিন অ্যাকটিভ থাকার উপর। বাড়ি থেকে বেরিয়েই অ্যাপ ক্যাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন? অভ্যেস বদলান। প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে যতটা হাঁটাচলা গুঁজে দেওয়া যায় তার চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে দিনে অন্তত এক ঘণ্টা বরাদ্দ রাখুন কোনও ব্যায়ামের জন্য। ওজন বাড়তে দিলে চলবে না, ওবেসিটি আর ডায়াবেটিস হাতে হাত ধরে চলে। দুইয়ের যুগপৎ আক্রমণ সামলানো মুশকিল হয়ে যাবে। আর এর পরেও যদি রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকে, তা হলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ও তাঁর পরামর্শ মেনে চলুন। ইচ্ছে থাকলে আপনি সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের মধ্যেই বেঁধে রাখতে সমর্থ হবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য