সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের অধিকাংশ নীতি পাল্টানোর অঙ্গীকারের পর ১১ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিলেন বলিভিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট জিনাইন আনিয়েজ।

যুক্তরাষ্ট্রে বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ওয়ারতের অস্কার সেরাতে কোইয়ার এর আগে দেশটির জাতিসংঘ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন, জানিয়েছে বিবিসি।

গত প্রায় ১৪ বছর ধরে সমাজতন্ত্রপন্থি মোরালেস বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি দেশটির প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্টও ছিলেন।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোরালেসের আমলে বলিভিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়েছিল, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বলিভিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

২০০৮ সালে মোরালেস সরকার লা পাজে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফিলিপ গোল্ডবার্গকে বিরোধীদলগুলোকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কার করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনও ওয়াশিংটন থেকে বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত গুস্তাভো গুজমানকে বহিষ্কার করে।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বলিভিয়ার কোনো রাষ্ট্রদূত ছিল না।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অস্থিরতার পর ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন মোরালেস। এরপর অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে দেশত্যাগ করেন। তিনি ডানপন্থিদের ক্যু-য়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

মোরালেস পদত্যাগ করার পর থেকে বলিভিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংস প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

মোরালেসের পদত্যাগের পর বলিভিয়ার ডানপন্থি সিনেটর জিনাইন আনিয়েজ নিজেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। বলিভিয়ার আইন পরিষদের বৈধ অনুমোদন না থাকলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনিয়েজকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র ।

ক্ষমতা গ্রহণ করেই সোজা মোরালেস আমলের গৃহীত নীতি উল্টে দিতে শুরু করেন আনিয়েজ।

মোরালেস আমলে বলিভিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র সমাজতান্ত্রিক কিউবা ও ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বদলে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন।

পেরু ও ভ্যাটিকানে নিযুক্তরা ছাড়া বলিভিয়ার সব রাষ্ট্রদূতকে চাকরিচ্যুত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য