দিনকয়েক আগে মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

কংগ্রেস, শিব সেনা ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) আবেদনে সাড়া দিয়ে ভারতের এ সর্বোচ্চ আদালত বুধবারের মধ্যে মহারাষ্ট্রে আস্থা ভোট আয়োজনের আদেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

অন্তর্বর্তী একজন মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হওয়া ওই ভোট সরাসরি সম্প্রচারও করতে বলেছে তারা।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যটির ক্ষমতাদখল নিয়ে বিজেপির করা নাটকের পরিসমাপ্তি টানতে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা অনেকের।

অক্টোবরের নির্বাচনে ২৮৮টি আসনের ১০৫টিতে জিতে বিজেপি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যটিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।

তবে ভোটের আগে থেকেই জোটসঙ্গী, ৫৬টি আসন জেতা শিব সেনার সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে মতের মিল না হওয়ায় ফড়নবিশের দ্বিতীয় মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

বিধানসভার ভোটে বিরোধী জোটের এনসিপি ও কংগ্রেস জিতেছিল যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৪টি আসন।

বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়ে কংগ্রেস ও এনসিপিকে নিয়ে সরকার গড়ার প্রস্তুতি নেয় উদভব ঠাকরের দল।

তাদের আলাপ-আলোচনার মধ্যেই শনিবার সকালে হুট করে এনসিপির অজিত পাওয়ারকে উপ মুখ্যমন্ত্রী করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ফডনবিশ।

এনসিপির শীর্ষ নেতা শারদ পাওয়ার এ ঘটনাকে বিজেপি ও অজিতের যৌথ জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করেন।

অজিতকে পরে এনসিপির সংসদীয় দলের নেতার পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, মহারাষ্ট্রে গভর্নরের কাছে ফড়নবিশ তার সমর্থনে যে সাংসদের স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন, তাতে এনসিপির ৫৪ জনের নামও আছে।

অন্যদিকে শারদের অভিযোগ, দলের সাংসদদের এক বৈঠকে নেওয়া উপস্থিতির স্বাক্ষরকেই অজিত বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমর্থন হিসেবে দেখিয়ে ফায়দা নিতে চেয়েছেন।

শিব সেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি তাদের ১৫৪ সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত নথি আদালতে হাজির করে নতুন সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।

শুনানি শেষে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বিধানসভায় আস্থা ভোট আয়োজনে সবুজ সংকেত দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের এ শুনানির মধ্যেই ফড়নবিশ সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব বুঝে নেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

শনিবার তার সঙ্গে উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও অজিত এখনও দায়িত্বভার নেননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য