আশ্চর্যজনক হলেও সত্য সদ্য সমাপ্ত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছে শিক্ষার্থী। বিরামপুর পৌর শহরের আদর্শ স্কুল পাড়ার বাসিন্দা ফুলবাড়ি উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে নিজে খাতা না দেখে অন্যের বাড়ির শিক্ষার্থীকে দিয়ে ভাড়ায় মূল্যায়ন করার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন সোমবার তার ১০০ খাতা জব্দ করে।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়নের সময় দিনাজপুরের বিরামপুরে জেএসসির (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ১০০টি খাতা জব্দ করেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আলম।

খাতাগুলো মূল্যায়নের জন্য ওই বাড়ি থেকে জেএসসিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী অনিককে দেওয়া হয়েছিল। তাদেরই প্রতিবেশী শিক্ষক সাহানুর রহমান খাতাগুলো অনিককে দিয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

জানা গেছে, অনিকের মা একজন গৃহিণী। বাবা চাকরির সুবাদে অন্যত্র থাকেন। ছোট ভাই নার্সারিতে পড়ে। তারা বিরামপুর পৌর শহরের আদর্শ বিদ্যালয় পাড়ায় থাকেন। একই এলাকার বাসিন্দা সাহানুর রহমান ও তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। সাহানুর রহমান ফুলবাড়ি উপজেলার জয়নগর উচ্চবিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক। আর স্ত্রী শাহনাজ বেগম বিরামপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

সদ্য শেষ হওয়া জেএসসির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ২৫০টি খাতা মূল্যায়নের জন্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করেন সাহানুর রহমান। কিন্তু তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ২৫০টি খাতা মূল্যায়নের জন্য দিয়ে যান। ওই বাড়ির কেউ শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত নন। পরে জিয়াউরের ছেলে অনিক খাতাগুলো মূল্যায়ন করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসন ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০০টি খাতা জব্দ করে।

জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দিলরুবা বেগম বলেন, ‘শিক্ষক সাহানুর রহমান ২৫০টি খাতা দিয়ে গিয়েছিলেন। এরমধ্যে মূল্যায়ন করা ১৫০টি খাতা নিয়ে গেছেন। বাকি ১০০টি খাতা ছিল। খাতাগুলো মূল্যায়ন করেছে আমার ছেলে অনিক। বাকি ১০০টি খাতা মূল্যায়ন হয়ে গেলে সাহানুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ বেগমের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’

বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আলম বলেন, ‘জব্দ করা খাতাগুলো সিলগালা করে বিরামপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।’
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে এসব খাতা থানায় রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।’

বিরামপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খাতাগুলো শিক্ষা কর্মকর্তা জব্দ করে থানায় জমা দিয়েছেন। সেগুলো থানায় রাখা হয়েছে।’
তবে এ ব্যাপারে জানতে শিক্ষক সাহানুর রহমান ও তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কল সিরিভ করেননি। পরে মোবাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য