মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচটি উপজেলায় বেশ ধুমধাম করেই পালন করা হয় নবান্ন উৎসব। সদর উপজেলার মোট ২১ টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দেখা মিলেছে নবান্ন উৎসবের আমেজ।

বাংলা সালের অগ্রহায়ণ মাসে এ সপ্তাহে নবান্ন উৎসবে মেতেছে কৃষক কিৃষানীরা। ঘরে ঘরে আনন্দের যেন কোন কমতি নেই। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই পরিবারের মানুষ নিয়ে এই নবান্ন উৎসব করে। যুগযুগ ধরে চলে আসা আনন্দের সাথে পালনে এবারও কোন ব্যতিক্রম হবে না।

ইতিমধ্যে এলাকার কৃষকরা গত কয়েক দিন আগেই আগাম জাতের নতুন ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। পাড়া মহল্লায় গরু, খাসি জবাই করে ভাগাভাগি করে নিয়ে নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠাপুলি পায়েশ-পোলাও এবং নতুন চালের আটা, গুড় ও কলা দিয়ে সিরনি থৈরি করে আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশীদের নিয়ে খাবার ধুম পরে যায় গ্রামে গ্রামে।

নবান্ন ছাড়া এই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার অনেক কৃষক নতুন চালের ভাত খান না। এর মধ্যে যেসব কৃষকের ধান পাকতে দেরি হয় তারা পরে নবান্ন করেন।

আবার অনেকে স্থানীয় মসজিদে পায়েশ ও পোলা দেয়ার পর নতুন চালের ভাত খান। উপজেলার বিশ্বাসপুর গ্রামের মোঃআব্দুল কুদ্দুস আলী জানান, এ সময় আমরা আমাদের সব ধরনের আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করি।

এবং বাড়ীতে ২দিন আগের থেকে আত্মীয় স্বজন আসতে শুরু করেছে। একই উপজেলার শিবগঞ্জ , গিলাবাড়ি, জামালপুর ও বিভিন্ন গ্রামে নবান্ন উৎসব চলে ২-৩ দিন ধরে।

নবান্ন উপলক্ষে সোমবার শিবগঞ্জ হাটে বিভিন্ন জিনিস পত্র ক্রয় করতে দেখা গেছে। পুহাতু রায় জানান, নবান্ন উপলক্ষে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করেছি এবং আজ নতুন ধানের চাল দিয়ে নবান্ন করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন চালের ভাত খাওয়া হবে। পুজো দিব পিঠা পুলি খাওয়া হবে। বেটি জামাইর বাসায় পাঠাব। প্রতিবছরেই আমরা নবান্ন উৎসব বেশ ধুমধাম করেই করার চেষ্টা করি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য