সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে ইরাক। শুক্রবার থেকে তৃতীয় ধাপে পদার্পণ করেছে ইরাকি জনগণের বিক্ষোভ। এদিকে সোমবার বিক্ষোভে রক্তাক্ত রূপ ধারণ করেছে পুরো দেশ। সরকারপন্থী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরাক জুড়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন বিক্ষোভকারী। সেইসঙ্গে একই দিনে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে।

ইরাকের দক্ষিণের শহর উম কাসরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামা জনগণের উপর। এতে ৭ জন জন নিহত হয়েছেন সেখানে। এছাড়াও ৮৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নাসিরিয়াতে ৪ জন নিহত ও ৭১ জন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। বিক্ষোভকারীরা প্রাদেশিক সরকারের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন এবং একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

রাজধানী বাগদাদে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও নাজাফ ও দিওয়ানিয়াতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

দক্ষিণের আরেক শহর বাসরাতে পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ক্যানিস্টারের আঘাতে ৪০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা এদিন শহরের কেন্দ্রস্থলে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এদিকে ঐতিহাসিক কারবালায়ও ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আহত হয়েছেন প্রায় ২৪ জন বিক্ষোভকারী। এছাড়া ইরাকের দক্ষিণের আমারা ও কুত বন্দরেও বিক্ষোভের খবর জানা গেছে।

ইরাকের সামরিক বাহিনী দেশে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার কথা অস্বীকার করেছে। ইরাকের জয়েন্ট অপারেশন্স কমান্ড আজ (সোমবার) বলেছে, কাউন্টার টেরোরিজম সার্ভিস বা সিটিএস’র অফিশিয়াল পেইজ হ্যাক করে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

তুরস্কের আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গতকাল সিটিএস’র ফেইসবুক ও টুইটার পেইজ হ্যাক করে সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব ছড়ানো হয়। সেখানে বলা হয়- ইরাকে সমারিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা চলছে।

জয়েন্ট অপারেশন্স কমান্ড বলেছে, “আমরা বলতে চাই যে, কিছু দুষ্কৃতকারী সিটিএস’র ফেইসবুক ও টুইটারের অফিশিয়াল পেইজ হ্যাক করে সামরিক অভ্যুত্থানের কথা প্রচার করেছে যা একেবারেই ভিত্তিহীন এবং অবিশ্বাস্য।”

সিটিএস’র প্রধান তালিব শাকাতি আল-কানানি নিজেও অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সিটিএস সবসময় দেশ, জনগণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল এবং থাকবে।

গত মাস থেকে এ পর্যন্ত ইরাকের সামাজিক যোগাযোগের সরকারি পেইজগুলো কয়েকবার হ্যাকিংয়ের কবলে পড়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য