সংবাদ সম্মেলনঃ বাংলাদেশ থেকে অতিসম্প্রতি হারিয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠি আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের মানুষসহ আদিবাসীদের নিরাপত্তা, ন্যায় বিচার প্রাপ্তি এবং মামলার বিষয়ে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিনাজপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ নামে একটি সংগঠন।

দেশে আছে মাত্র কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠী কড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার। যার সংখ্যা ২০ এরও কম, তাদের বসবাস দিনাজপুরের বিরলে। আর এই কয়েকটি পরিবারের জমিজমা দখল করে তাদেরকে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর মধ্যে হয়েছে হামলা, দেয়া হচ্ছে হুমকী। এমন অবস্থায় পড়ালেখা বন্ধের পথে ওই সম্প্রদায়ের শিশুদের। অবিবাহিত মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতার কারনে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন তারা।

রোববার দুপুরে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ এমন অভিযোগ করেন।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক মুজিব মেহদি বলেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) নারী এবং জাতিগত ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠির সমান অধিকার বাস্তবায়নে ১৯৮৬ সাল থেকে কাজ করছে।

তিনি জানান,এই সংগঠনের বাস্তবায়নাধীণ আপহোল্ডিং রাইটস অব মাইনরিটিজ বিয়ন্ড বর্ডাস-সাউথ এশিয়া প্রকল্পের আওতায় তারা গত ২৩ নভেম্বর দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১০ নং রানী পুকুর ইউনিয়নের ঝিনাইকুড়ি-হালজায় গ্রামে চলতি বছরের ৬ মার্চ কড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর যে নির্যাতন নিপিড়ন সংঘটিত হয়েছে এই ঘটনার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন- চলতি বছরের ৬মার্চ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিরলে আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালায়। এসময় বেশ কয়েকজন আদিবাসী আহতও হয়। ঘটনার ৮মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সংস্লিষ্টেদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। বরং তাদের উপরে এখনো বিভিন্ন রকমের হুমকি ধামকি প্রদান করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আরো অভিযোগ করা হয়েছে,হামলার ৮ মাস অতিবাহিত হলেও আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের ভিটায় নারীদের মাঝে এখানো উদ্বেগ-উতকুন্ঠা কাটেনি,কড়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা মনে করে তাদের অবিবাহিত মেয়েরা নিরাপদ নয়। তারা বলেন, হামলায় নেতৃত্বদানকারী কামরুজ্জামান এখনো বীরদর্পে স্থানীয়দের হুমকি-ধমকী দিয়ে যাচ্ছে। কড়াদের দেশত্যাগে বাধ্য করাই এই জমিদখল গোষ্ঠির মুল লক্ষ।

সংবাদ সম্মেলন হতে ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর শাস্তি দিয়ে কড়া সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়- এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের করা মামলায় পুলিশ বাদির সাথে কথা না বলেই চার্জশিট দিয়েছে আদালতে। প্রায় বিলুপ্ত কড়া সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলোকে পাশে দাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের লেখক ও গবেষক পার্থ পাভেল,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম ঊদ্দীন খান,দৈনিক সমকালের রাজিব নুর,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের দীপায়ন খীমা,নিউ এজের ইমরান হোসেন ইমন,ভাবনার পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান রুপম,জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন, অধ্যাপক ড.মাসুলুল হক, কড়া সম্প্রদায়ের বীরমুক্তিযোদ্ধা কিনু কড়া, সোনিয়া কড়া প্রমূখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য