ইরানের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ ইন্ধন জুগিয়েছে বলে প্রমাণ হলে তাদের ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি।

“এই অঞ্চলের কিছু দেশের জানা উচিত যে, যদি এমন কোনো সূত্র মেলে যেখানে তাদের মাধ্যমে ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে বোঝা যায়, তাহলে তারা সহজে বাঁচতে পারবে না,” শনিবার তিনি এমনটা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফারস।

পেট্রোলের দামবৃদ্ধির জেরে দেখা দেওয়া প্রাণঘাতী এ সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য তেহরান এর আগে ইরানের নির্বাসিত বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মতো ‘বিদেশি শত্রু সংশ্লিষ্ট দুর্বৃত্তদের’ দায়ী করেছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের অর্থনীতি ধ্বসিয়ে দিতে দেশটির ওপর আরোপিত পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করে ওয়াশিংটন। ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়ে আসছে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইসরায়েল।

সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনেও এই দেশ দুটির হাত আছে বলে ধারণা তেহরানের। জাহাঙ্গিরির বক্তব্যে দেওয়া হুঁশিয়ারিও মূলত তাদেরই প্রতি, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইরানের সরকার পেট্রলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিলে নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুর দিকে বিক্ষোভ কয়েকটি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কারমেনশাহতেই অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে ১১৫ হয়েছে বলেও ভাষ্য তাদের।

বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় ইরানের পুলিশ ‘পালের গোদা’ ১৮০ জনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

এর আগে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া প্রায় ১০০ জনকে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলে শুক্রবার জানিয়েছিল ইরানের বিচার বিভাগ।

কয়েকদিন আগে ইরানি গণমাধ্যম হাজারখানেক বিক্ষোভকারীকে আটকের খবর দিয়েছিল।

ইরানের সামরিক বাহিনী এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা কারমেনশাহ প্রদেশে গত সপ্তাহের সহিংস অস্থিরতা থামাতে পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বলে শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সহিংস বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ‘মার্কিন এজেন্ট’ আছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

২০০৯ সালে হওয়া ‘গ্রিন রেভ্যুলেশনের’ পর ইরানে এটাই সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ ছিল বলে ভাষ্য রয়টার্সের। এক দশক আগে কয়েক মাসের ওই বিক্ষোভে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য