মাসুদ রানা পলক,ঠাকুরগাঁও: দ্রুত ধান কাটায় ব্যস্ত ঠাকুরগাঁওয়ের আলু চাষিরা। ধান কাটা শেষ হলেই আলুর আবাদ করবেন এ অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তবে কিছু কিছু এলাকায় উঁচু জমিতে আগাম জাতের ধান কেটে আগাম আলু চাষ শুরু করছেন কৃষকরা।

এদিকে নতুন ধানের দাম বাজারে কম থাকায় চিন্তায় কৃষকরা। তাই তো আগাম আলু চাষ করে তারা কিছুটা লাভবান হতে চান।

এবারে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা ও দুর্যোগ বেশি হওয়ায় শাক- সবজির দাম ভালো পাওয়া যাবে ধারনা করছেন চাষিরা। তাই ব্যস্ত এখন আলু চাষ নিয়ে।

আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবারে আলুর ফলন বাম্পার হবে বলে জানান ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের আলুচাষি আব্দুল কুদ্দুস আলী বলেন, আমাদের কিছু উঁচু জমি আছে যেটাতে আগাম জাতের আলু চাষ করার জন্য আগাম ধান চাষ করেছিলাম। অনেকদিন আগেই আমরা ধান কেটেছি। ওই জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবারে ঠাকুরগাঁও জেলায় আলুর ফলন ভাল হতে পারে। আমরা আর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আগাম জাতের নতুন আলু তুলতে পারবো।

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা এলাকার আলুচাষি কৈলাস বলেন, বর্তমানে শীতের প্রকোপ কম তাই আলুর বাম্পার ফলন হতে পারে বলে আশা করছি। দামও ভালো হতে পারে। কারণ এবার পুরাতন আলুর দাম বেশি থাকায় নতুন আলুর দাম তার থেকে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মিলন বলেন, আমরা ম্যাচকরে কয়েকজন ছাত্র একসঙ্গে থাকি আমাদের প্রতিদিনই বাজার করতে হয়। ঠাকুরগাঁও শহরের কাঁচাবাজার আড়ত থেকে বর্তমানে পুরাতন কার্ডিনাল আলু কিনছি ২০-২৫ টাকা কেজি দরে। আর দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে। পুরাতন আলুর দাম যদি এটা হয় তাহলে আমার মনে হচ্ছে নতুন আলুর দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হবে আমাদের।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে আগাম জাতের আলুর ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তাই কৃষক উঁচু জমির ধান কেটে আগাম জাতের আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলতাবুর রহমান জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বিভিন্ন উপজেলার চাষিরা আগাম জাতের আলু লাগিয়েছেন।এবারে ঠাকুরগাঁও জেলায় ১২০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু লাগিয়েছেন কৃষকরা। তবে কিছু কিছু এলাকায় ব্যাক্টেরিয়া উইল্ট রোগ দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগ চাষিদের ম্যানকোজেফ, কারবান্ডাজিফ গ্রুপের ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপসহকারী বিভিন্ন মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে কাজ করে যাচ্ছেন এবং কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য