আবু তাহের আনসারী, পঞ্চগড়ঃ তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের প্রায় ১ মাস পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করে সাংবাদিকদের প্রেসব্রিফিং করলেন পুলিশ সুপার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে হত্যার বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ অক্টোবর সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ব্রহ্মতোল গ্রামের ঝিকধুয়া স্লুইজগেটের নিচে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাথাবিহীন লাশটির পরিচয় পাওয়া ব্যক্তির নাম আব্দুর রব। সে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার দূর্গাপুর ইউনিয়নের মৃত আলী করিমের ছেলে। নিহত আব্দুর রব পেশায় ছিলেন একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ীক সূত্রে তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের যুগিগছ গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মরিচ ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সাথে তার পরিচয় হয়। সেই থেকে দুজনে মরিচের ব্যাবসা চালিয়ে আসতে থাকে। নিহত আব্দুর রব বিভিন্ন সময় ব্যাংকের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা পাঠাতেন মানিক ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

আর এই টাকা লেনদেনের কারনেই মানিক মিয়া ও তার ছেলে আমান দুজন মিলে আব্দুর রবকে নিজ বাড়িতেই হত্যা করে। লাশের গায়ে পেঁচানো বিছানার চাদর ও প্রযুক্তিগত তথ্যের সূত্র ধরে আসামী মানিকের স্ত্রী আফরোজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিলে সে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দেয়। তার দেয়া তথ্য মতে ১৯ নভেম্বর নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি এলাকা থেকে পলাতক আসামী মানিক ও তার ছেলে আমানকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুড়ি এবং ভিকটিমের মোবাইল পুকুর থেকে উদ্ধারসহ লাশ বহনের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। ২০ নভেম্বর আসামীরা যে ছুরিটি দিয়ে জবাই করেছে সেই ছুড়িটিও উদ্ধার করা হয়। দুইজনেই আমাদের কাছে স্বীকার করেছে তারা হত্যাকান্ডটি করেছে।

তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে । পুলিশ সুপার আরও জানান, এমন ভাবে মামলাটির রহস্য আমরা উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি যার সমস্ত তথ্য একত্র করে চার্জসিট দিব তাদের বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায়সহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য