জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ গত ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সৈয়দপুর সহ নীলফামারী জেলার সর্বত্র চরম জন দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতের জন্য যান বাহন না পেয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছে সর্বস্তরের মানুষ।

বিশেষ করে চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা সৈয়দপুর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানসহ রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় জেলায় যাতায়াত করতে পারছে না। একান্ত প্রয়োজনে যারা এ অবস্থার মধ্যেও রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের অনেকে ইজিবাইকে করে দূরের গন্তব্যে রওয়ানা হচ্ছেন। এতে দ্বিগুন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সে সাথে সময়ের অপচয়সহ ভোগান্তির শেষ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দেখা যায় এখান থেকে দিনাজপুর-রংপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সহ জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস-মিনিবাস-দূরপাল্লার কোচগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এরুট গুলো দিয়ে কোন প্রকার যান বাহন চলাচল করছেনা। মোটর শ্রমিকরা টার্মিনালের সড়কগুলোতে জটলা করছে। কোন প্রাইভেট কার বা পিকআপ এবং সরকারী বাস সার্ভিস বিআরটিসির যানবাহনগুলো এলেও তা গতিরোধ করে আটকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

২১ নভেম্বর সকালে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রংপুর থেকে দিনাজপুরগামী একটি বিআরটিসি বাস আসলে রাস্তায় অবস্থানরত মোটর শ্রমিকরা তার জানালার গ্লাস ভেঙ্গে দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড়, রাবেয়া ফ্লাওয়ার মিল মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ধর্মঘটের ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আখতার হোসেন বাদলের সাথে। তিনি বলেন, নতুন পরিবহন আইনের কিছু কিছু ধারা শ্রমিক তথা চালকদের ক্ষেত্রে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এধারাগুলো পরিবর্তনের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। এ কারণে সড়ক পথে কোন গণপরিবহন চলাচল করছেনা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

এদিকে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে বলেন, আমরা মালিকরা গণপরিবহন চালাতে সর্বদা প্রস্তুত আছি। কিন্তু শ্রমিকরা না চালালে আমাদের কিছুই করার নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য