রংপুরের আরকে রোড ট্রাক স্ট্যান্ড সড়ক অবরোধ করেছে পণ্যবাহি পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় নতুন আইন সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভ করে বিক্ষুদ্ধরা।বুধবার বেলা এগারোটায় নগরীর আরকে রোড কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করছে।

বিক্ষুদ্ধ পরিবহন শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বিঘিœত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহি বাসের গতিরোধ করছে। অনেক বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় তারা। এ ছাড়া কার, মাইক্রোবাস গাড়ি চলতেও বাধা দিতে দেখে গেছে।

এদিকে ভোর থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাতিলসহ ৯ দফা দাবিতে সারাদেশের মত রংপুরেও পণ্যবাহি পরিবহন ধর্মঘট চলছে। এতে সকল রুটে বন্ধ রয়েছে ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্টভ্যান চলাচল। এই পরিবহন ধর্মঘটে রংপুর থেকে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট অভ্যন্তরীণ রুটে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ধর্মঘটের কারণে জেলায় পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কাঁচামালসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারীরা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে কৃষকরা।

সকালে রংপুর মহানগরীর কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল, ববাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। পাশাপাশি লোকাল বাস স্ট্যান্ডগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।

রংপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই। এটা কেউ ইচ্ছে করে ঘটায় না। তারপরও অনেক শ্রমিকের দায়িত্বের অবহেলার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

তবে মানুষ খুন করে যদি জামিন মেলে, তাহলে দুর্ঘটনার জন্য শ্রমিকের জামিন মিলবে না কেন? অনেক অযৌক্তিক ধারা নতুন আইনে রয়েছে। আমরা আইন সংশোধন করা হোক।

এসময় তিনি বলেন, নয় দফা দাবি আাদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। প্রয়োজনে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থা নিবে।

বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে ট্রাক শ্রমিকরা এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : রংপুরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে চলাচলরত বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন পণ্যবাহি পরিবহন শ্রমিকরা।

কোথাও কোথাও গাড়ির কাগজপত্রাদি ও লাইসেন্স দেখার নামে হয়রানিও করতে দেখা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ।

বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর আরকে রোড ট্রাক টার্মিনাল সড়ক, মর্ডাণ মোড় সড়ক, কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনাল এলাকাতে পরিবহন শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে এভাবেই ধর্মঘট পালন করছে।

নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাতিলসহ নয় দফা দাবিতে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা রংপুরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন সড়কে অবস্থান নেয়। থেমে থেমে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি কাঁচামালবাহি পরিবহন থামিয়ে দেয়।

এ সময় গাইবান্ধা, বগুড়া, ঢাকাগামি বাস থেকে যাত্রীদের জোরপূর্বক নামিয়ে দেয় শ্রমিকরা।

কোথাও কোথাও পুলিশের সামনেই কার, মাইক্রোবাস জরুরী সেবাবাহি পরিবহনও থামিয়ে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি পরীক্ষা করে। এতে সাধারণ যাত্রীরাসহ চরম বিপাকে পড়েছেন জরুরী সেবাবাহি গাড়ির চালকরা।

এব্যাপারে ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, বাসের যাত্রীদের হয়রানি করা বা চলাচলরত বাস থামিয়ে দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শ্রমিকদের এসব কর্মকা- থেকে বিরত থাকার জন্য অবগত করা হবে।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট চলবে। এই ধর্মঘটের সাথে মোটর বাস শ্রমিক ও মালিকরা নেই।

এদিকে রংপুরে সকাল থেকে রংপুর-কুড়িগ্রাম, রংপুর-লালমনিরহাট অভ্যন্তরীণ রুটে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে মোটর শ্রমিকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য