আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধায় লবণের দাম বাড়ার গুজবে জেলা শহরসহ হাট-বাজারগুলোতে লবণ কেনাবেচার হিড়িক পড়েছে। তিতাস, পঁচা ও ফ্রেস লবণের ডিলার জেলা শহরের ভিএইড রোডের মেসার্স সবুর অ্যান্ড ব্রাদার্সের দোকান এবং গুদামে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই লবণ কেনার হিড়িক পড়ে যায়। আবার কোথাও কোথাও লাইন ধরে খুচরা ও পাইকারীভাবে লবণ ক্রেতারা কিনছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া শহরের পুরাতন বাজার, নতুন বাজার, হকার্স মার্কেটের দোকানসহ অন্যান্য মনোহারী দোকানগুলোতেও একসাথে একাধিক প্যাকেট লবণ ক্রয় করতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ি, সাদুল্যাপুর উপজেলা সদর এবং গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারগুলোতে লবণের মূল্য বৃদ্ধি এবং দুষ্প্রাপ্যতার গুজব সকাল বেলা থেকেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই গুজবের ফলেই ক্রেতারা অধিক পরিমাণ লবণ কিনতে শুরু করেন। এই সুযোগে কোনো কোনো উপজেলা সদর এবং গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিকেজি লবণের দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাঘাটার কামালের পাড়া ইউনিয়নের ফলিয়ার বাজারে প্রতি কেজি লবণ ১শ টাকা করে বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে গাইবান্ধার লবণের ডিলার মেসার্স সবুর অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুস সবুর জানান, এই গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ১০টা থেকে হঠাৎ করেই তার দোকানে লবণ বিক্রি বেড়ে যায়। দুপুর ২টা মধ্যেই ৮শ’ বস্তা (প্রতি বস্তায় ২৫ কেজি লবণ) বিক্রি হয়। এ খবর লেখা পর্যন্ত তার দোকানে লবণ বিক্রি অব্যাহত ছিল। এদিকে লবণের গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বিভিন্ন লবণের দোকান পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে। এসময় দোকানদারদের একজন ক্রেতার কাছে অতিরিক্ত লবণ বিক্রি না করার পরামর্শ দেন।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে কথা বললে তারা জানান, এ ধরণের গুজবের কোনো ভিত্তি নেই এবং লবণের কোনো সংকট বা মূল্য বৃদ্ধিরও কোনো কারণে নেই। তবে এব্যাপারে বাজার মনিটরিং করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য