মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লবনের মূল্যবৃদ্ধির গুজবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে তুলকালাম কান্ড ঘটে গেছে। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলসহ আশে পাশে উপজেলা থেকে দলে দলে লোক ছুটে এসেছে সৈয়দপুর শহরের লবনের পাইকারী দোকানগুলোতে।

সকাল ১২ টা নাগাদ দোকানগুলোতে রক্ষিত লবন বিক্রি হয়ে যায়। প্রতিদিনের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি গ্রাহকের উপস্থিতির ফলে মুহূর্তেই লবনশুন্য হয়ে পড়ে পাইকারী বাজার। এতে অনেক গ্রাহক এসে লবন না পেয়ে ফিরে যাওয়ায় চারপাশে চাউর হয়ে যায় বাজার থেকে লবন উধাওয়ের খবর। এমতাবস্থায় শহরের পাড়া-মহল্লাগুলোর দোকানেও ভীড় জমতে থাকে লবন ক্রেতাদের।

এতে ক্ষুদ্র মুদি দোকান ব্যবসায়ীদের মধ্যেও লবন কেনার হিড়িক পড়ে। তারাও ছুটতে থাকে পাইকারী বাজারে। কিন্তু লবন না পেয়ে দোকানে ফিরে গিয়ে অধিক মুনাফা লাভের সুযোগ নিতে বেশি দামে বিক্রি শুরু করে। অনেকে আবার মজুদ শেষ হওয়ার আশংকায় লবন বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এতে চরম হই হুল্লোর পড়ে যায় সর্বত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারী বাজারে ১ কেজি ওজনের লবনের ২৫ প্যাকেটের কার্টুন বিক্রি হয়েছে ৯ শ’ টাকায়। অথচ গতকালও এর দাম ছিল ৭৫৫ টাকা। একইভাবে মুদি দোকানগুলোতে প্রতি কেজি লবন বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা দরে। তারপরও লবন ক্রেতাদের ভীড় লেগেই আছে দোকানগুলোতে।

এমতাবস্থায় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহজাহান এর নেতৃত্বে পুরো বাজারে মনিটরিং শুরু হয়। এসময় সৈয়দপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু, দি বণিক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন। এতে শহরের লবনের প্রধান কেন্দ্র শহীদ জহুরুল হক রোডের পাইকারী দোকান মালিকদের নিয়মিত গ্রাহক ছাড়া লবন বিক্রি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের বাজার মূল্য তথা ন্যায্যমুল্যে সৈয়দপুর উপজেলার মধ্যেই লবন বিক্রির জন্য বলেন। কোনভাবেই যেন সৈয়দপুরের লবন অন্য উপজেলার যেতে না পারে সেজন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। এ বিষয়ে প্রশাসনের সার্বক্ষনিক তদারকি থাকবে বলে লবন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।

পরে মাইকিং করে বিষয়টি শহর জুড়ে জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাড়া মহল্লার মসজিদগুলোর মাইক থেকে এ ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হয়। এসময় বলা হয় দোকানদাররা যেন কোনভাবেই বেশি মূল্যে লবন বিক্রি না করেন। লবণের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যে অপ-প্রচারণা চলছে তা নিছক গুজব মাত্র। এর কোন ভিত্তি নেই। কারণ বাজারে পর্যাপ্ত লবনের মজুদ আছে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পাইকারী লবন ব্যবসায়ী মেসার্স রিজওয়ান ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আখতার জানান, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে লবন মজুদ আছে এবং বাজার নির্ধারিত দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনাই নেই। আমদানীকারকরা সিন্ডিকেট করে দেশীয় লবনের পরিবর্তে ভারত থেকে লবন আমদানী করার লক্ষ্যে লবণের মূল্যবৃদ্ধির অপপ্রচার শুরু করেছে।

এসময় বণিক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, সৈয়দপুরে ব্যবসায়ীদের নিকট যে পরিমান লবন মজুদ আছে তাতে আগামী ৬ মাস লবনের কোন সংকট সৃষ্টির বিন্দুমাত্র আশংকা নেই। ভূয়া গুজব ছড়িয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য