ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে জ্বর জ্বরভাব, সর্দিকাশির সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য রয়েছে ভিন্ন ধরনের অস্ত্র।

সর্দি-জ্বরে যদি ধরাশায়ী হয়েই যান তবে ওষুধ অবশ্যই কার্যকর উপায়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া চেষ্টাও করতে পারেন। কারণ সামান্য হলেও ওষুধ খাওয়ারও ক্ষতিকর দিক আছে।

স্বাস্থ্যবিয়ষক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশতি প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের আলোকে জানানো হল এমন কিছু উপায় যা আপনাকে চমকে দিতে পারে।

প্রোটিন: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেকোনো শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক, সর্দি-জ্বরের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য। আমরা যা খাই তা শরীর সুস্থ সবল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শরীর খারাপ লাগা শুরু করলেই প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারেন।

পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার শরীরকে দেবে পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং সর্দি-জ্বর সৃষ্টিকারী জীবাণু থেকে সুরক্ষা। প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন সি’য়ে ভরপুর লেবুজাতীয় ফল এবং টমেটো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

শরীর মালিশ: হালকা শরীর মালিশও সর্দি-জ্বর থেকে সুরক্ষা দেয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উজ্জ্বীবিত করার মাধ্যমে। আর শারীরিক আরাম তো পাবেনই। সর্দি-জ্বর থেকে বাঁচাতে মালিশ উপকারী। তবে রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে শরীর মালিশ করানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

ভেজা মোজা পরা: শুনতে অদ্ভূত শোনালেও জেনে রাখুন, ভেজা মোজা পরে থাকা সর্দি-জ্বর বাড়ায় না. বরং সারায়। রাতে ঘুমানোর আগে ভেজা মোজা পরে থাকা কাজ করে রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে সহায়ক ‘হাইড্রোথেরাপি ট্রিটমেন্ট’ হিসেবে।

জ্বর কমাতেও এই পদ্ধতি কার্যকর। কারণ এর ফলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে।

ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো মোজা পরার পর তার উপর উলের শুকনা মোজা পরে নিতে হবে। সারারাত পরে থাকার পর সকালে নিশ্চয় শারীরিক অবস্থার উন্নতি অনুভব করতে পারবেন।

কাঁচা পেঁয়াজ: সর্দি-জ্বর দূর করতে কাঁচা পেঁয়াজ কার্যকর হওয়ার প্রধান কারণ দুইটি। প্রথমত, পেঁয়াজ প্রাকৃতিকভাবে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল’ আর দ্বিতীয়ত, এতে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী। একটি পেঁয়াজ কেটে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরে সেই পানি পান করতে হবে।

চা: সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রত্যেকটি মানুষ চা পান করার দিকে জোর দেয়। সবসময় দুধ চা পান করা লোকটাও দোকানে গিয়ে বেশি করে আদা দিয়ে লাল চা চায়। তবে আদা চায়ের থেকেও উপকারী হবে ‘গ্রিন টি’, ‘ব্ল্যাক টি’ ও ‘হোয়াইট টি’। এদের প্রত্যেকটিতে থাকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ যা সর্দি-জ্বরের জীবাণু ধ্বংস করতে উপকারী। চাইলে চায়ে মেশাতে পারেন এক চামচ মধু।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য