আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ চাষতে জানলে ধু-ধু বালুচরেও সোনা ফলানো সম্ভব। আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করে সেটা আবারো প্রমাণ করেছে লালমনিরহাটের তিস্তা চরাঞ্চলের চাষিরা। ভোগ্যপণ্যের বাজারে সব থেকে আলোচিত ও সংকটময় পণ্য পেঁয়াজ এ মাসেই বাজারজাত করবে এ অঞ্চলের চাষিরা। এদিকে বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়ায় চুরি যাওয়ার ভয়ে রাতে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা।

গত রাত ৮ টায় আদিতমারী উত্তর পাড়ার পেঁয়াজ চাষি আনছার আলীকে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিতে দেখা যায়।

প্রতিবেশী দেশ ভারত পেঁয়াজ রফতানি হঠাৎ বন্ধ করায় দেশের বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে রান্নার অন্যতম মসলা খ্যাত পেঁয়াজ। ফলে ৩৫/৪০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন শত টাকা কেজি দরে। যা নিয়ে দেশে রীতিমত হৈ চৈ পড়েছে। হাট বাজার থেকে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়। এমন কি খোদ মহান সংসদেও আলোচনার ঝড় উঠেছে পেঁয়াজের বাজার নিয়ে। আকাশ ছোঁয়া দামে কিনতে হচ্ছে পেঁয়াজ। বর্তমান বাজারে দাম ভাল থাকলেও কৃষকদের পেঁয়াজ বাজার আসার প্রাক্কালে কমে যাওয়া নিয়ে বেশ শ্বঙ্কিত জেলার চাষিরা।

এ মাসেই বাজারে আসছে তিস্তাপাড়ের পেঁয়াজ -Dinajpur, Dinajpurnews, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুরনিউজ, দিনাজপুর নিউজ বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Bangladesh, বাংলাদেশ I+আদিতমারী উত্তরপাড়া গ্রামের চাষি আনছার আলী(৬৫) জানান, পেঁয়াজ সংকট দেখা দেয়ায় দাম বেড়ে যায়। তার ২৭ শতাংশ জমির পেঁয়াজ পরিপক্ক হওয়ায় ছিচকে চোর চক্র পেঁয়াজ চুরি করতে পারে সন্দেহে সন্ধ্যার পর থেকে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন তিনি। দাম বেশি থাকায় ক্ষেতের বড় বড় গাছের পেঁয়াজ তুলে নেন।

৬০ কেজি পেঁয়াজ লালমনিরহাট শহরে নিয়ে গিয়ে প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করেন। মাত্র ৬০ কেজি পেঁয়াজ ৮হাজার টাকায় বিক্রি করে বেশ খুশি চাষি আনছার আলী। তার ২৭ শতাংশ জমির আগাম পেঁয়াজ চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২২হাজার টাকা। বাকী পেঁয়াজ চোরের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাতেও ক্ষেতের আইলে বসে রয়েছেন এ চাষি।

তিনি বলেন, দেড় মণ পেঁয়াজ ৮হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। জীবনে এত দাম পাইনি পেঁয়াজ চাষে। দীর্ঘ দিনের পেঁয়াজের লোকসান এবার উঠে আসবে। ২৭ শতাংশ জমিতে আরো প্রায় ১৫/২০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করা যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

পাশের ওমর কাজি মাদরাসা এলাকার চাষি আব্দুল হাই বলেন, এক হাজার ৬শত টাকা মণ দরে তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজের বীজ ক্রয় করে ২০ শতাংশ জমিতে ২৫ কেজি বীজ পেঁয়াজ রোপন করি। আগাম জাতের হলেও রোপন করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবুও ডিসেম্বর মাসে বাজারে বিক্রি করা যাবে। বিগত কয়েক বছর আমদানির কারনে পেঁয়াজ চাষে লোকসান হওয়ায় চাষ কমে গেছে। পেঁয়াজ মৌসুমে আমদানি না করলে লাভবান হবে চাষিরা। তবেই পুনরায় পেঁয়াজ চাষে এগিয়ে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু চাষি সংকট মোকাবেলায় এবং মুনাফা পেতে অপরিপক্ক পেঁয়াজ গাছসহ বিক্রি করছেন। এ ক্ষেত্রে এক মুঠা পেঁয়াজসহ গাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০/৭০ টাকা দরে। অনেকেই এসব পেঁয়াজ ক্রয় করছেন। এলাকার চাষিদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। ডিসেম্বর মাসে ব্যাপক ভাবে আসলেই পেঁয়াজের বাজার সহনীয় পর্যয়ে আসবে বলেও ব্যবসায়ীদের দাবি।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ৫টি উপজেলায় ৩৫০ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। যা বাজারে বিক্রিও শুরু করেছেন চাষিরা। তবে নভেম্বরের শেষ দিকে ব্যাপক হারে বাজারে আসবে চাষিদের নতুন পেঁয়াজ।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ পরিচালক বিদু ভূষন রায় বলেন, স্বল্প পরিমানে হলেও স্থানীয় চাষিদের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরের প্রথমে ব্যাপক হারে বাজারে আসবে চাষিদের পেঁয়াজ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন ভাল হয়েছে। চাহিদা থাকায় এবারে পেঁয়াজ চাষিরা বেশ লাভবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য