দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাতা পেঁয়াজ বের হলেও সেই তুলনায় পিয়াজের দাম কমেনি। নতুন পাতা পেঁয়াজ বাজারে আসা মাত্রই ব্যবসায়ীরা কিনে তা ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করায় সেই তুলনায় স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে না।

তবে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারী ও খুচরা বাজারে আমদানিকৃত পেঁয়াজের কিছুটা ঝাঁজ কমছে। একদিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকাদাম কমেছে। যে পেঁয়াজ শনিবার খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে। রোববার সেই পেঁয়াজই প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে।

আবার হিলিতে পিয়াজের দাম কিছুটা কমলেও দিনাজপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার কাচাঁ বাজারে রোববার পিয়াজের দাম কিছু কমে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজী ২২০টাকায়। আর নতুন পাতা পিয়াজ কেজী ১২০টাকায়। জেলার বিভিন্ন স্থানে পিয়াজের দাম একেক রকম দেখা গেছে। তবে বাজার মনিটরিং করলে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ক্রেতারা জানান।

এদিকে, চলতি মাসের শেষ দিকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের আমদানিকারকরা। তবে পুরনো এলসির বিপরীতে বাকি পেঁয়াজ রফতানির আর কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন হিলি আমদানী-রপ্তানী গ্রুপের সভাপতি হারুনুর রশিদ হারুন।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি হওয়ায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে পেয়াজের দাম মনিটরিং করায় হঠাৎ কমতে শুরু করে পেয়াজের দাম। আরও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার পিয়াজ ব্যবসায়ী নিঞ্জন কুমার সাংবাদিকদের বলেন, পিয়াজের চাহিদার তুলনায় আমদানি অনেক কমে গেছে, আবার আমদানীকৃত পিয়াজ সমুদ্র বন্দর থেকে নিয়ে আসতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি। এতে পিঁয়াজের মুল্য ও ঘাটতি দুটোর কারণে পিয়াজের মূল্য কমছে না।

হিলি আমদানী-রপ্তানী গ্রুপের সভাপতি হারুনুর রশিদ হারুন জানান, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে আগের এলসির প্রায় দেড় হাজার টন পেঁয়াজ আটকা পড়ে ভারতে। কয়েক দফা বৈঠক ও আদালতের দারস্থ হয়ে ৪ অক্টোবর একহাজার টন ও ২২ অক্টোবর ৫০টন পেঁয়াজ রফতানি করে ভারত। বাকি সাড়ে ৪০০টন পেঁয়াজ এখন পর্যন্ত রফতানি করেনি ভারত।

এতে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি একেবারে বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি আগের এলসির বিপরীতে আটকে থাকা পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি চেয়ে ভারতীয় রফতানিকারকরা সেদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা বৈঠক হলেও ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। পুরনো এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানির আর কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য