আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট: পেয়াঁজের দাম প্রতিদিন হু হু করে বাড়লেও এ দাম সহজে কমছে না বলে আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে উঠতি নতুন পেয়াঁজ বাজারে না আসা পর্যন্ত পেয়াঁজের দাম কমার কোনো সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না।

লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, চুরি হওয়ার ভয়ে কৃষকরা তাদের উঠতি পেয়াঁজ ক্ষেত রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে নতুন পেয়াঁজ বাজারে আসবে। এ পেয়াঁজ বাজারে আসলেই দাম অনেকটা কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার হলদিবাড়ী গ্রামের কৃষক সফিকুল ইসলাম, হাসান আলী, খোরশেদ আলম জানান, আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে তারা তাদের ক্ষেতের পেয়াঁজ তুলতে পাবে। দুই এক দিন রোদে শুকিয়ে নেয়ার পর পরেই তারা তাদের উৎপাদিত পেয়াঁজ বাজারে বিক্রির জন্য তুলতে পাবেন। হঠাৎ করে পেয়াঁজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের রাত জেগে উঠতি পেয়াঁজ ক্ষেত পাহারা দিতে হচ্ছে। কষৃকরা এলাকা ভিত্তিক কয়েক দলে ভাগ হয়ে পালাক্রমে রাত জেগে দল বেঁধে তাদের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছি।

ওই এলাকার খাইরুল ইসলাম নামে এক কৃষক বলেন, এখন পেয়াঁজের দাম অনেক বেশি থাকলেও আমরা যখন পেয়াঁজ বাজারে তুলবো তখন দাম পাবো না। এক বিঘা জমিতে পেয়াঁজ চাষে ২৫ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৩০ মন থেকে ৩৫ মন পর্যন্ত পেয়াঁজ উৎপাদন হবে। প্রতি মন পেয়াঁজ যদি দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করা যায় তাহলে আমাদের কিছু লাভ হবে। কিন্তু আমরা যখন পেয়াঁজ তুলবো তখন প্রতিমণ পেয়াঁজ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হবে। ফলে অনেক কৃষক পেয়াঁজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বিধূ ভুষণ রায় বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ১৫ দিন থেকে ২০ দিনের মধ্যে নতুন পেয়াঁজ বাজারে উঠবে। নতুন পেয়াঁজ বাজারে এলেই দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য