কুড়িগ্রাম জেলাধীন রৌমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেষা ১৩টি গ্রামের ২২ হাজার মানুষের জন্য বরাদ্ধকৃত ২টি ব্রীজ নির্মাণে ঠিকাদারের গড়িমশির কারণে জন দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। দেখার যেন কেউ নেই ? বড়াইবাড়ী, বড়াইবাড়ী বিজিবি, ঝাউবাড়ী, পুর্ব বারবান্দা, চুলিয়ারচর, বাওয়াইর গ্রাম, বকবান্দা, খেওয়ারচর, পূর্ব দুবলাবাড়ী, পাটা ধোয়াপাড়া, চর কলাবাড়ী, কলাবাড়ী, দুবলাবাড়ীসহ প্রায় ১৩টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সরকার দন্নী নদীর উপর ৬৬ মিটার ও জিঞ্জিরাম নদীর উপর ৮৫ মিটার ২টি ব্রীজ নির্মানের বরাদ্ধ দিয়েছেন। কিন্তু  ঠিকাদারের গাফিলাতির কারণে এলাকার মানুষ চরম ভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। রৌমারী উপজেলার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম ঐ গ্রামের মানুষের।

কলাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফর হোসেন বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল কলেজের পড়-য়া শিক্ষাথীর্, ব্যবসায়ী, বিজিবি সদস্যগন, সাবেক এমপি রুহুল আমিনসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। ইজলামারী নদীর উপর সাবেক এমপি সময় বরাদ্দ দেয়া ব্রীজটি নির্মান কাজে গাফিলাতিতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার ঐ ১৩ গ্রামের মানুষ।

বারবান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, এলাকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন থেকে দন্নী ও জিঞ্জিরাম নদীতে নৌকা কিংবা বাঁশের সাঁকো দিয়ে হাট-বাজার স্কুল কলেজে যাতয়াত করে। এলাকাবাসীর দাবীতে ২০১৪ সালের দন্নী ও জিঞ্জিরাম নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণে জন্য ৭ কোটি ৯লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ২০১৭ সালে দন্নী ও জিঞ্জিরাম নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালে জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলাতিতে অদ্যাবধি ব্রীজের নির্মাণে কাজ অর্ধেকই শেষ হয়নি।

সাবেক এমপি রুহুল আমিন বলেন, আমি এমপি হওয়ার পরপরই এই এলাকার মানুষের জিঞ্জিরাম নদীর উপর দীর্ঘদিনের দাবী এবং আমার বাড়ীও তাদের সাথে সেই সুবাদে এমপি হওয়ার পরেই দন্নী নদীর উপর ও জিঞ্জিরাম নদীর উপর ব্রীজের বরাদ্দ এনে দেওয়া হয়, তা টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার কাজটি পায়। ২০১৮ সালের জিঞ্জিরাম নদীর উপর ব্রীজ ২টির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। ব্রীজ নির্মাণ কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ এলাকার জনমানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উদ্ধোর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসীর পক্ষে আমার দাবী যত দ্রুত সম্ভব ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ করে এলাকার মানুষের চলাচলের ভোগান্তি নিরসন করা হউক।

অপরদিকে উপসহকারী প্রকৌশলী মেজবাহ উল আলম বলেন, জিঞ্জিরাম নদীর উপর ব্রীজটি অতিতাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে। তবে দন্নীর উপর ব্রীজটি বারবার বন্যার কারণে কাজ নির্মানে দেরী হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারের সাথে কথা বলে চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার ব্যবস্থা নিব।
২টি ব্রীজ নির্মাণে দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য