বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকরা নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের শাসনের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে আসার পর দেশটিতে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

রোববার মোরালেসের পদত্যাগের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনেটের প্রধান ও হাউস অব ডেপুটিসের প্রধানও পদত্যাগ করায় ক্ষমতা কেন্দ্রে সৃষ্ট শূন্যতা তৈরি হয়। শূন্যতা পূরণে মঙ্গলবার সিনেটের বিরোধীদলীয় ডেপুটি প্রধান জিনাইন আনিয়েজ নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।

কিন্তু কংগ্রেসে এ ঘোষণা দেওয়ার সময় কোরাম সংকটের কারণে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নিয়োগে জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ছিল না। মোরালেসের দলের কংগ্রেস সদস্যরা অধিবেশন বর্জন করায় কোরাম সংকট তৈরি হয়েছিল।

তবে বলিভিয়ার সাংবিধানিক আদালত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনিয়েজের নিয়োগ অনুমোদন করেছে।

ক্ষমতা গ্রহণ করেই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন আনিয়েজ।

মোরালেসের দলের আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনিয়েজের নিয়োগকে অবৈধ দাবি করে কংগ্রেসে পাল্টা অধিবেশন ডেকে তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাইছে। কিন্তু বুধবার পুলিশ মোরালেরস অনুগত আইনপ্রণেতাদের দেশটির পার্লামেন্টে প্রবেশে বাধা দিয়েছে বলে প্রকাশিত খবরের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

আনিয়েজের নিয়োগের বিরোধিতা করে মোরালেসের সমর্থকরাও রাজধানী লা পাজের রাস্তায় নেমে আসে। মিছিল নিয়ে তারা প্রেসিডেন্ট প্যালেসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

কিছু বিক্ষোভকারী কাঠের টুকরা ও লোহার রড নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

প্রতিবাদকারীরা এ সময় ‘এখন, গৃহযুদ্ধ’ শ্লোগান তুলে বলে জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।

লা পাজের পাশাপাশি এল আলতো ও কোকা চাষের অঞ্চল এল চাবারেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন মহলের চাপে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন মোরালেস। পদত্যাগ করার পর রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে মেক্সিকো চলে গেছেন তিনি।

বলিভিয়ার জাতীয় পরিষদে বেনি অঞ্চলের প্রতিনিধি ৫২ বছর বয়সী আনিয়েজ একজন আইনজীবী। একসময় টোটালভিশন টিভি স্টেশনের পরিচালক ছিলেন তিনি।

মোরালেসের কট্টর সমালোচক আনিয়েজ ২০১০ থেকে সিনেটর ছিলেন। মোরালেসের বিরুদ্ধে ‘ক্যু’ হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনিয়েজকে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য