টানা বিক্ষোভের মুখে বুধবার অচল হয়ে পড়ে এশিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চীন-শাসিত হংকং। সহিংসতা এড়াতে এদিন শহরের কিছু অংশে রেল ও যান চলাচল, স্কুল এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। বৃহস্পতিবার অঞ্চলটির সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবর: রয়টার্স।

বুধবার দুপুরে নগরীর কেন্দ্রস্থলে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে। নিষিদ্ধঘোষিত মুখোশ পরে বিক্ষোভকারীরা সড়কে বিক্ষোভ করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল কিছু আবাসিক ভবন ও দোকান লক্ষ্য করে ইট ছুড়েছে। বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারীকে মাটিতে ফেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। আগের দিন রাতে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা রাতে সড়ক অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।

এছাড়া তারা পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুড়ে এবং বিভিন্ন জেলার শপিংমলগুলোতে ভাঙচুর চালায়। এদিকে নিরাপত্তাহীনতা ও যান সংকটের কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার হংকংয়ের সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে হংকংয়ের শিক্ষা ব্যুরো বিক্ষোভকারীদের সব ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়। সোমবার এক নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ।

এরপরই শহরটিতে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হংকংয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ৮ নভেম্বর বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে হংকংয়ের পরিস্থিতি বিক্ষুব্ধ হয়েছিল।

এক সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। অপরাধী প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি প্রস্তাবিত বিল বাতিলের দাবিতে গত জুন থেকে হংকংয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। টানা বিক্ষোভের মুখে ঐ বিল শেষ পর্যন্ত গত মাসে বাতিল ঘোষণা করেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম। তবে গণতন্ত্রপন্থিরা নির্বাচনসহ সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য