দিনাজপুর সংবাদাতাঃ পার্বতীপুর উপজেলার আমবাড়ি হাটে হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসায় প্রায় এক মাস যাবত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ্য কলেজ ছাত্রী রুকসানা(১৭) এর ভবিষ্যত জীবনে নেমে এসেছে অমানিশার অন্ধকার। সামনেই তার এইচ,এস,সি পরিক্ষা। পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা তার এখন অনিশ্চিত।

পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্স হাসপতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রুকসান পা পারভীন (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রী মাথা ব্যাথার রোগ নিয়ে যায় আমবাড়ী হাটের পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে যায়। হাতুড়ী ডাক্তার ওই ছাত্রীর শরীরে কয়েকটি ইনজেকশন পুঁশ করেন। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন গ্যাসের ক্যাপসুলসহ ১২/১৩ প্রকারের ট্যাবলেট দেয়া হয় ওই রোগীকে। এসব ঔষধ সেবন করে পরেরদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে সে।

পূনরায় হাতুড়ী ডাক্তারের কাছে গেলে তাকে দেয়া হয় আরও ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল। এসব সেবন করে ওই ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। আশঙ্কজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল(দিমেক) ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভূল চিকিৎসা ও মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ সেবনের শিকার ওই ছাত্রীটি প্রায় একমাস যাবত হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেয়েটি আমবাড়ী মহিলা কলেজের ছাত্রী ও চলতি বছরের এইচ,এস,সি পরিক্ষার্থী। পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়ারী ইউনিয়নের উত্তর শিবপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর মেয়ে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মেয়েটির বাবা মোকছেদ আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তার মেয়েকেহাতুড়ে ডাক্তার সামান্য মাথা ব্যাথার জন্য ৭/৮শ টাকার উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল দেন। শরিরে ইনজেকশনও পুঁশ করিয়েছেন। বাসায় নিয়ে আসার পর সারারাত মেয়েটি ঘুমাতে পারেনি। পরের দিন পূনরায় তাকে হাতুড়ী ডাক্তার নিকট নিয়ে গেলে আরও কিছু ঔষধ সেবন করিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তার এই অপচিকিৎসায় আমার এ পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়ে গিয়েছে। মেয়েটি এখনও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

এদিকে এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে পার্বতীপুর উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে তদন্তে যান।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডাঃ আলম মিয়া পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমবাড়ীতে এমন আরও ১০/১২জন হাতুড়ে ডাক্তার সাধারন মানুষদেরকে অপচিকিৎসা দিয়ে চলেছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল মাফি জানান, অবিলম্বে ভ্রাম্যমান আদালতের সহায়তায় সকল ধরনের হাতুড়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য