সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুর সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপ্রচারের প্রতিবাদ ও আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী সাবেক চেয়ারম্যান মোশররফ হোসেন ও মনোনয়ন বঞ্চিত আ’লীগ নেতা খতিব উদ্দীন আহমেদের বিচারের দাবীতে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের লিখিত অভিযোগ আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত ৯নং আস্করপুর ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি খতিবউদ্দীন আহমেদ বিএনপি, জামায়াতকে নিয়ে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এরই প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে আস্করপুর ইউনিয়নের ১২জন সদস্য, সদস্যা ও ৯টি ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ নেতাকর্মী ও সকল স্তরের সাধারন মানুষ অংশগ্রহন করেন। শহরে নামে মানুষের ঢল।

মানববন্ধন চলাকালীন বক্তব্য রাখেন, প্যাানেল চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরহাদ আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধরন সম্পাদক বাবুল হোসেন, ২নং যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী, ইউপি সদস্য পিয়ার উদ্দীন, ইউপি সদস্যা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন প্রমুখ। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ও মনোনয়ন বঞ্চিত খতিব উদ্দীন আহমেদ বিএনপি, জামায়াতের সাথে আতাত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং শুদ্ধি অভিযানকে ব্যাহত করতে আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক, সাজানো ও মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

অনুপ্রবেশকারী মোশররফ হোসেন জাতীয়পার্টি ও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। এখন ছাত্র দলের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহিন খান ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মানববন্ধন ও মিথ্যা স্মারককলিপি দিয়েছে। চেয়ারম্যান জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও শেখ হাসিনা ক্ষমতার আসার পর দেশ ও জাতির উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন। দেশ যখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহাসড়কে এসে দাঁড়িয়েছে তখন এদেশ থেকে নির্মূল করা হয়েছে দূর্ণীতি, অনিয়ম, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস। প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন ঘুষ, দূর্ণীতি, মাদকসহ দেশব্যাপী অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

জনগনের মধ্যে সস্তি ও শান্তি উজ্জিবিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই মহাপরিকল্পনাকে বিভ্রান্ত করতে বিএনপি-জামায়াত মাঠে নেমেছে। আর সেই সূত্র ধরেই বিএনপি, জামায়াতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এবং প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আমার বিরুদ্ধে এ মিথ্যাচার করছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে দূর্ণীতির সহযোগীতার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনুপ্রবেশকারী মোশাররফ হোসেন বিএনপি জামায়াতের সেই পুরাতন বন্ধুদের নিয়েই আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। জিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন সদস্যের সাথে সভা করে রেজুলেশন করা হয় এবং পরবর্তিতে উপজেলা পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে অনুমোদন নিয়ে ঝড়ে পড়া ও পোকা ধরা গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটার বিক্রিলব্ধ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। কৃষকদের স্প্রে মেশিন বিতরনের প্রকল্পের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলজিএসপির ৪১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা বিধি মোতাবেক ঠিকাদারকে দেয়া হয়েছে।

যার অনুমোদন দিয়েছেন ইউএনও অর্থাৎ সদর উপজেলা পরিষদ। আর এ সবের কাজের তত্বাবধায়ন করে স্থানীয় সরকারের ডিডিএলজি ও ড্রিষ্টিক ফেসিলেটর। এলজিএসপির কোন কাজ অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই এবং কাজের ভালোমন্দ দেখার ডিএফএ’র দায়িত্ব। ডিডিএলজি ও ডিএফএ ক্লিলিয়ারেন্স দেয়ার পরেই সকল কাজের প্রাকলন অনুয়ায়ী শতভাগ সম্পন্ন হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেক দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে।

আমি নির্বাচিত হওয়ার পর মাদক ও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষানা করে পুলিশ, বিজিবির উধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিকবার সচেতনতামূলক সমাবেশ করি। গত ৩ বছরে আমার নির্দেশে গ্রাম্য পুলিশ অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীকে ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ অনান্য মাদকসহ হাতেনাতে আটক করে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে র্সোপদ করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীদের অন্ধকার পথ থেকে আলোর পথে আনার জন্য ও পূর্ণবাসিত করার জন্য নিজ উদ্যোগে অটোরিক্সা, ভ্যান, সেলাই মেশিন, ছাগল দিয়েছি। তারা এখন এ সবের মাধ্যমে উর্পাজন করে সংসার চালাচ্ছে। ফিরে এসেছে আলোর পথে।

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় ও তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর হাতে র্সোপদ করায় আমার বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র। প্রধানমন্ত্রী দূূর্ণীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করায় বিএনপি ও জামায়াত এ অভিযানকে ব্যর্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অনুপ্রবেশকারীরা সহায়তা করছে। প্রধানমন্ত্রী ও উন্নয়নের কান্ডারি শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি ৯নং আস্করপুর ইউনিয়নে উন্নয়নের জোয়ার তুলেছি এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি (জিয়া) নৌকা প্রতীক পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছিলো। কিন্তু আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কার বিরুদ্ধে বিজয়ী না হতে পেরে তখন থেকেই তারা বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আর যাদের নিয়ে তারা এ সব অপপ্রচার করছে তারা বিএনপি-জামাতের লোকজন। এলাকায় মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এসব করানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবী করেন। তিনি বলেন, যতই বাঁধা আসুক অনুপ্রবেশকারীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, দূর্ণীতিবাজসহ অপরাধের সাথে জড়িতদের সাথে আপোষ নেই। এ সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য