সকালে খালি পেটে পানি পানের আলাদা উপকারিতা না থাকলেও, শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এই অভ্যাস।

সারাদিন পানি পান করা পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করেন। তাদের ধারণা এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, মানসিক অবস্থা ভালো হয়। তবে এই ধারণা আসলে কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।

ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ: ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে পেট সাময়িক সময়ের জন্য ভরে যায়, ফলে খাবার খাওয়া পরিমাণ কমে। যারা ওজন কমাতে চাচ্ছেন তাদেরকে বিশেষজ্ঞরা পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো পরামর্শ দেন যাতে তাদের খাওয়া কমে। তবে সকালে পানি পান করলে যে সারাদিনের ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা করবে এই ধারণা আংশিক সত্য। কৈশোর বয়সে খাওয়া আগে পানি পান করা ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা নাও কমাতে পারে। তবে তা শরীরকে যে আর্দ্র রাখবে সেটা নিশ্চিত।

শরীরের আর্দ্রতা: সারারাত ঘুমের মধ্যে নিশ্চয়ই পানি পান করা হয়নি। ফলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। আর একারণেই সকালের প্রথম জল বিয়োগে তার রং হলুদ হয়। তাই সকালে উঠে প্রথমেই পানি পান করলে শরীরের আর্দ্রতা ফিরে আসবে এটাই সহজ হিসাব। আসলে মূত্রের রং পানিশূন্যতা সঠিক নির্ণায়ক নয়। সকালে প্রথমবার ত্যাগ করা মূত্রের স্বাভাবিকভাবেই গাঢ় হয়। কারণ অনেকক্ষণ তরল পান করেন নি। তার মানে এই নয় যে আপনার পানিশূন্যতা আছে।

শরীরের বিষাক্ত উপাদান অপসারণ: এই কাজ করার দায়িত্ব বৃক্কের। আর কাজটি করতে পানি প্রয়োজন। তবে কোন সময় পানি পান করছেন তার সঙ্গে বৃক্কের কার্যক্ষমতার তারতম্যের সম্পর্ক নেই। শরীরের বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে বৃ্ক্ক তা নিজের ছন্দে অপসারণ করবে, তাতে আপনি যখনই পানি পান করুন না কেনো।

আসল কথা হল

সকালে খালি পেটে পানি পান করার স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে এই অভ্যাস কখনই শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। পানি কখন পান করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। শরীরের দৈনিক পানির চাহিদা পূরণ করাই হল মুখ্য বিষয়। যা গড় হিসেবে প্রায় দুই লিটার। তাই তৃষ্ণা পেলেই পানিতে চুমুক দিতে হবে, সময় বেঁধে পান করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য