ভারতের মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ে ২০ দিন ধরে চলা নাটকের চূড়ান্ত ফলাফলস্বরূপ অবশেষে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হলো রাজ্যটিতে। মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ২০ দিনের পরেও বিজেপি, শিবসেনা, এনসিপি, তিন দলকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান করেন রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি। তবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য জোগাড় করতে পারেনি কোন দলই, কেন্দ্রকে এই রিপোর্ট দেওয়ার পরেই মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে মঙ্গলবার। এর আগে একইদিন সকাল ১১ টায় রাজ্যটিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এদিকে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিজেপির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে শিবসেনা।

বিজেপি এবং শিবসেনা, কোন দলই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে সমর্থ না হওয়ায় শারদ পাওয়ারের জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টিকে(এনসিপি) সরকার গঠনের আহ্বান জানান রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে সরকার গঠনের জন্যে এনসিপিকে সময় দেওয়া হলেও তার আগেই এই রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশে অনেকেই অবাক হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার এনসিপি এবং কংগ্রেসের সমর্থন মূলক চিঠি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আরও তিনদিন সময় দেওয়ার জন্য রাজ্যপালের কাছে অনুরোধ করে শিবসেনা। কিন্তু রাজ্যপাল তাঁদের অতিরিক্ত সময় না দিয়ে পরিবর্তে, তৃতীয় বৃহত্তম দল এনসিসিপিকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান।

এর আগে ফোনে শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরেকে আশার আলো দেখান কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। শেষ মুহুর্তে, সর্মথনের চিঠি নিয়ে শিবসেনা যখন রাজ্যপালের দরবার যাওয়ার জন্য প্রস্তুত, কংগ্রসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস বিধায়করা শিবসেনার সঙ্গে সরকার গঠনের পক্ষে থাকলেও সোনিয়া গান্ধী মতাদর্শগতভাবে চিরকালীন শত্রুর সঙ্গে জোট বাঁধার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের পক্ষে মত দেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পর পরই রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির বিরুদ্ধে বিজেপির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে শিবসেনা। তাদের অভিযোগ, বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য দুদিন সময় দেওয়া হলেও, তাদের কোনও সময় দেওয়া হয়নি। ​

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন শেষে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় শিবসেনা ও বিজেপির মধ্যে। ক্ষমতার ৫০-৫০ বন্টন চেয়েছিলেন শিবসেনা নেতা উদ্ভব ঠাকরে। অবশেষে সোমবার বিজেপি-শিবসেনা জোট, এনডিএ থেকে প্রস্থানের বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন শিবসেনার একমাত্র মন্ত্রী। বিজেপি থেকে শিবসেনার আলাদা হয়ে যাওয়া ছিল এনসিপির বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার শর্ত। কিন্তু শেষ মূহুর্তে শিবসেনার সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কংগ্রেস ও এনসিপি। কংগ্রসের উদ্বেগ, বিজেপির ৩০ বছরের সঙ্গী শিবসেনা, তাদের এই বিচ্ছেদ চিরস্থায়ী হবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য