পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা হংকংয়ে আইনের শাসনকে ‘পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে’ ঠেলে দিয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার হংকংয়ে নতুন করে পুলিশের গুলি এবং সহিংসতার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা এল।

গত অক্টোবরের পর সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশ তৃতীয়বারের মতো কাউকে সরাসরি গুলি করেছে। অন্যদিকে,সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বেইজিংপন্থি এক সমর্থকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মঙ্গলবারও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকাসহ দুটো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এদিন ‘লাঞ্চ ব্রেকের’ সময় প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী হঠাৎ করেই রাস্তায় নেমে নগরীর সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর নিচের সড়ক অবরোধ করে।

ওই বিক্ষোভকারীদের বেশিভাগই কর্মস্থলের পোশাকে এবং মুখোশ পরে ছিল। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় এক ডজনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পরিবেশ শান্ত হলে পুলিশের মুখপাত্র কং উইং চেউং এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে গত দুদিনের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সমাজকে পুরোপুরি পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।”

“মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা উন্মাদের মত মেট্রোরেলের লাইনে সাইকেল, ধাতব টুকরা এবং অন্যান্য আবর্জনা ফেলছে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের এ কাণ্ডে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।”

“মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের আশা নিয়ে বেপরোয়াভাবে সহিংস হয়ে উঠছে। তারা হংকংয়ে আইনের শাসনকে পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।”

সোমবার বেইজিংপন্থি অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে মুখপাত্র চেউং আরো বলেন, কে বা কারা তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে।

একই সংবাদ ব্রিফ্রিংয়ে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের পক্ষও সমর্থন করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সহকর্মীরা যে কারো না কারো কাছ থেকে হুমকির মুখে পড়ছে তাই নয়, বরং এক দল মানুষ সংগঠিতভাবে পরিকল্পনা করে আমাদের বন্দুক চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে- এমনটিই আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

“এরকম পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি আমাদের পুলিশ বাহিনী নিজেদের পাশাপাশি তাদের আশোপাশের মানুষজনের সুরক্ষায় গাইডলাইন অনুযায়ীই কাজ করছে।”

চীনের মূলভূখণ্ডে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি প্রস্তাবিত বিল বাতিলের দাবিতে গত জুন মাস থেকে হংকংয়ে এ আন্দোলন-বিক্ষোভ শুরু হয়।

টানা বিক্ষোভের মুখে ওই বিল প্রথমে ‘মৃত’ এবং পরে বাতিল ঘোষণা করা হলেও আন্দোলন থামেনি। বরং গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আরো অনেক দাবি নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।

সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে শহরটির বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়।

মঙ্গলবার এসব স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এদিন বিস্তৃত পুলিশি তল্লাশিতে হংকংয়ের রেলস্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে; কর্তৃপক্ষ অনেক স্থানে রেল যোগাযোগ স্থগিত কিংবা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়েও দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য