বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করে নির্বাচনী পদ্ধতি সংস্কারের মাধ্যমে আগাম নির্বাচন আয়োজন করতে ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মাসের প্রথমদিকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এ আহ্বান জানালো।

“ইরাকে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনে যোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের জন্য এবং প্রেসিডেন্ট সালিহর দেওয়া নির্বাচনী সংস্কার ও আগাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য ইরাকি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে,” সোমবার বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রথমে কর্মহীনতা ও সরকারি সেবার অপ্রতুলতা নিয়ে ইরাকে প্রতিবাদ শুরু হলেও শিগগিরই সম্প্রদায়ভিত্তিক ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পদ্ধতির সরকার ও এ থেকে সুবিধা নেওয়া রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়।

প্রতিবাদ দমনে প্রধানত তরুণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো গুলি, কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে, এতে ২৮০ জন নিহত হন।

নির্বাচনী পদ্ধতি সংস্কার করা হলে তরুণরা রাজনীতি করার বেশি সুযোগ পাবেন এবং ক্ষমতায় রাজনৈতিক দলগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে যাবে, রোববার ইরাকি নেতারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক দখল করে নিয়ে স্বৈরশাসক সাদ্দাম হুসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বর্তমান রাজনৈতিক অভিজাতরা ক্ষমতায় আসে। দুই বছর আপাত স্থিতিশীল থাকার পর শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষমতাসীন অভিজাতরা সবচেয়ে বড় ও জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য