দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরনের পর হত্যার ঘটনায় ৩ জন আসামীকে ঢাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ রোববার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে সেই সাথে তাদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। এর আগে গতকাল শনিবার ঢাকা ডিএমপি’র আদাবর থানা পুলিশের সহযোগিতায় আসামীদেরকে আটক করে কোতয়ালী থানা পলিশ।

আসামীরা হলেন- দিনাজপুর সদর উপজেলার উথরাইল দক্ষিণ কামাতপাড়া এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে সামসুজ্জোহা (২০) ও একই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে শাহরিয়ার কবির ইমন (২৩) এবং পার্বতীপুর উপজেলার পুরাতন ঈদগাহ মাঠ গলি এলাকার মৃত: নুর মোহাম্মদ শেখের ছেলে আব্দুল খালেক (৩৫)।

কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সকাল ১০ টার দিকে মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় উথরাইল দক্ষিণ কামাতপাড়া এলাকার এনামুল হকের মেয়ে সাদিয়া আফরিন মেঘলাকে (১৫) মাইক্রোবাসে করে অপহরন করে। এই ঘটনায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করা হয়।

গত ৭ নভেম্বর ঢাকার আদাবর থানাধীন শেখেরটেক শ্যামলী হাউজি (মিশন গলি) এলাকার রোড নং-৬, বাসা নং -৩৩/খ তে ভিকটিম সাদিকা আফরিন মেঘলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি কোতয়ালী থানা পুলিশকে অবহিত করলে ডিএমপি পুলিশের সহযোগিতায় কোতয়ালী থানা পুলিশ ওই ৩ আসামীকে আটক করে।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও ভারপ্রাপ্ত ওসি বজলুর রশিদ জানান, এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদেরকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন আসলে মৃত্যুর কারণটি নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে অপহরনের পর জিম্মি করে এক নারীর সাথে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি প্রদর্শণ ও অর্থ আদায়ের ঘটনায় লিজা (৩০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ৭ নভেম্বর নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর নিয়ামতপুর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দিনাজপুরে পুরাতন মাইক্রোবাস ক্রয় করতে আসে।

কলেজ মোড় নামক এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে মাইক্রোবাস কিনে দেয়ার কথা বলে শহরের পাটুয়াপাড়া এলাকায় নিয়ে যায় কয়েকজন। পরে সেখানে একটি বাড়িতে আটক রেখে এক নারীর সাথে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

পরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং তা না দিলে আপত্তিকর ছবির মাধ্যমে মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকী প্রদান করে। এই ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর ভিকটিম নিজে বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পাটুয়াপাড়া এলাকার সিরাজুল মুনির খানের স্ত্রী লিজাকে আটক করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে পরিদর্শক বজলুর রশিদ জানান, এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ৪ জন নামীয়সহ আরো কয়েকজন। তাদেরকেও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য