সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডক্টর খালিদ বিন মোহাম্মদ আল আতিয়েহ ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশ নিঃশর্ত আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-কে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে দোহা।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সৌদি কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এসব পদক্ষেপের মধ্যে কাতারি কর্তৃপক্ষের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ একটি আইনও রয়েছে। তবে তার মতে, এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদ মেটাতে দোহা-র এখনও আরও বহু করণীয় রয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে দোহায় সৌদি নাগরিকদের স্বাগত জানানোর ঘোষণা দেয় কাতার। একইসঙ্গে সৌদি জোটের সঙ্গে বিরোধ মেটাতে কুয়েতের মধ্যস্থতায় যে উদ্যোগ চলছে তার প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করেছে দেশটি। তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল থানি বলেছেন, এই সংকট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তার দেশের নেই। কেননা এটি কাতার তৈরি করেনি।

শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল থানি বলেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে দোহায় সৌদি নাগরিকদের স্বাগত জানানো হবে। অন্য সময়েও দোহা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনও দেশের বাসিন্দাদের কাতার সফরে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি। যদিও কাতারের ওপর অবরোধ আরোপকারী দেশগুলো এর বিপরীত পদক্ষেপ নিয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ অবরোধ আরোপকারী সৌদি জোটের সঙ্গে নিঃশর্ত আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে এতে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সবকটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, আরব উপসাগরীয় দেশ কাতার ও তার বিরুদ্ধে অবরোধ ডাকা আরব দেশগুলোর মধ্যে চলমান বিবাদ ‘বহুদূর গড়িয়েছে। তিনি এই বিবাদের অবসান ঘটাতে চান। উল্লেখ্য, কাতার ও সৌদি আরব, দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

মাইক পম্পেও বলেন, কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর যে অবরোধ ঘোষণা করে রেখেছে, তাতে সুবিধা পাচ্ছে তাদের শত্রুরাই। তার ভাষায়, ‘তখন আমরা সবাই শক্তিশালী হই, যখন আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং আমাদের মধ্যে কোনও বিবাদ না থাকে। যেখানে আমাদের যৌথ স্বার্থ রয়েছে সেখানে বিবাদ বাড়ানো কোনও পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’ এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখাটা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ওয়াশিংটন চায় ইরানকে প্রতিরোধ করতে। বিবাদ মীমাংসা করে মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিয়ে ন্যাটোর মতো একটি জোট গঠনে আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্র: ব্লুমবার্গ, মিডল ইস্ট মনিটর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য