আমেরিকার কারণেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে চীন। দেশটি বলছে, ওয়াশিংটন একতরফাভাবে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি। শনিবার পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো সফরে গিয়ে নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পরিচালক ফু কং।

ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া চতুর্থ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ফু কং বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ প্রচেষ্টায় কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। তেহরান এখনও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি-তে অটল রয়েছে।

চীনা এই কূটনীতিক বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করলে ইরান এ সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফের বাস্তবায়ন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তেহরানকে এ সমঝোতায় অটল থাকার আহ্বান জানায়। কিন্তু তেহরানের দাবি, এই তিন দেশ গত দেড় বছরেও ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর প্রতিবাদে ২০১৯ সালের মে মাস থেকে পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে শুরু করে তেহরান। এখন পর্যন্ত চার দফায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। সর্বশেষ দেশটির ফোরদু পরমাণু স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু হয়েছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বলেছেন, এই স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা পরমাণু সমঝোতা পূর্ব অবস্থায় ফিরে গেছে। সূত্র: পার্স টুডে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য