ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কেন্দ্রস্থল থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিতে গুলিবর্ষণ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী, এতে অন্তত পাঁচ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

শনিবার গুলি বর্ষণের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদুনে গ্যাস ও শব্দ বোমাও ব্যবহার করে বলে পুলিশের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আরও বহু লোক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনী বাগদাদের কেন্দ্রস্থলের প্রায় সব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শুধু বাগদাদের পূর্বাংশের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর সঙ্গে তাইগ্রিস নদীর অপর পাড়ে সরকারি সদরদপ্তরগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী একটি সেতু বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা নদীর কয়েকটি সেতুর দখল নেওয়ার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের তাহরির স্কয়ারের দিকে ঠেলে দেয়। মূলত এই স্কয়ারটিতে জড়ো হয়েই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করে আসছে আন্দোলনকারীরা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা স্কয়ার সংলগ্ন জুমহুরিয়া সেতুর দখল ধরে রেখেছিল। বিক্ষোভকারীরা এখানে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। এরপর তাহরির স্কয়ার ও জুমহুরিয়া সেতু থেকে তাদের সরাতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাবে বলে আশঙ্কা বিক্ষোভকারীদের।

রাতে তাহরির স্কয়ারের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রতিবাদকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে।

পুলিশ ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ দিন বাগদাদে গুলিতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছে।

সংকট সমাধানে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। দেশ পরিচালনায় রাজনৈতিক দলগুলো ‘ভুল করেছে’ বলে শনিবার মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি। রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া প্রতিবাদের বৈধতা স্বীকার করে নির্বাচনী সংস্কারেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করেনি। ১ অক্টোবর থেকে তাহরির স্কয়ারে শুরু হওয়া পর থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২৮০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য