সংবাদ সম্মেলনঃ সন্তান অপহরণ নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আমাকে এবং পুলিশ প্রশাসনকেও হয়রানী করা হয়েছে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বীরগঞ্জের মাহানপুর গ্রামের বাদশা আলম। এখন সেই পুলিশই আবার মিথ্যা অপহরণ মামলার বাদীর পক্ষ নিয়ে উদ্ধার হওয়া ভিকটিমের সাথে আটক আসামীদের ছেড়ে দিয়েছে!!

গতকাল সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাদশা আলম। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার প্রতিবেশি রশিদুল ইসলামের লম্পট পুত্র ফরিদুল ইসলাম(৩২) গত ৩০/০৭/২০১৯ইং মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমার ঘরে প্রবেশ করে আমার স্ত্রী রোজিনা বেগম(২৬)কে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা তাকে আটক করে চিৎকার করিলে প্রতিবেশিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। লম্পট ফরিদুল ইসলামের আটকের সংবাদ পেয়ে তার লোকজন ছুটে এসে আমার বাড়িতে সন্ত্রাসি কায়দায় হামলা চালিয়ে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে লম্পট ফরিদুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় আমার স্ত্রী বাদী হয়ে (১) ফরিদুল ইসলাম, পিতা- রশিদুল ইসলাম, (২) আব্দুল বাসেদ, (৩) নুরল ইসলাম, উভয় পিতা- মৃত মাইনুদ্দিন, (৪) মোছাঃ হাসিনা, স্বামী- মোঃ নুরল ইসলাম, (৫) মোছাঃ ফরিদা, স্বামী- মোঃ রশিদুল ইসলাম, (৬) মোছাঃ সালেহা, স্বামী- আব্দুল বাসেদ কে আসামী করে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদারতে মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং ৪৯৭ তাং ৪/৮/১৯

তিনি আরো বলেন, মোহাম্মদপুর ইউপি সদস্য মৃত সামশুল হকের পুত্র হুমায়ুন কবির টাকা খেয়ে আপোশের চেষ্টা চালানো কালে আইনকে সন্মান করে মামলা করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কু-পরামর্শে ৩ ও ৪নং আসামি গত ০৮/০৯/২০১৯ইং তারিখে নিজের ছেলে মারুফ হোসেন (১১) কে লুকিয়ে রেখে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তদন্ত্য ছাড়াই নুরল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা আক্তার কে বাদী করে একটি সাজানো অপহরণের মিথ্যা ও সাজানো ঘটনায় ৪ জনকে আসামী বানিয়ে মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অফিচার্জ ইনচার্জ ও এসআই তহিদুল ইসলাম এলাকায় গিয়ে তদন্ত কালে ঘটনাটি মিথ্যা ও সাজানো বলে প্রকাশ করার পরেও অজ্ঞাত কারনে বীরগঞ্জ থানার এসআই তহিদুল ইসলাম আমাকে ২৯/৯/১৯ তারিখে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠায়।

গত ১৯/১০/১৯ সন্ধ্যায় এসআই তহিদুল ইসলাম অপরণের ভিকটিম মারুফ হোসনকে সাতোর ইউনিয়নের রাজবাড়ী গ্রামের আজিবুল্লাহের পুত্র আলি আকবর এর বাড়ি হতে উদ্ধার করে এবং আলি আকবর, মারুফের পিতা নুরল ইসলাম ও মিথ্যা মামলার বাদী মা হাসিনা আক্তারকে থানায় নিয়ে আসে।
এসময় মারুফ হোসেন জানায় তার মা-বাবা তাকে আটক করে অন্যের বাড়িতে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এসআই তহিদুল ইসলাম ঘটনাটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য ভিক্টিমকে রাস্তা হতে উদ্ধারের কথা বলে উদ্ধার হওয়া ভিকটিমের সাথে আটকদের ছেড়ে দেয়।

সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, যারা আমাকে এবং পুলিশ প্রশাসনকে মিথ্যা অপহরন মামলায় সাজিয়ে হয়রানী করলো আমি তাদের কঠোর শাস্তির দাবী করছি। সংবাদ সম্মেরনে উপস্থিত ছিলেন তহিদুল ইসলাম ও রোজিনা বেগম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য