জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা চলার কারণে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারি এ নির্দেশ অমান্য করে কুড়িগ্রাম শহরে সব ধরনের কোচিং সেন্টার চালু রাখা হয়েছে। কোচিং সেন্টারগুলো প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ক্লাস নিচ্ছে। এ ব্যাপারে কোচিং মালিকরা জানান, তারা জেএসসি বা জেডিসির কোনও ক্লাস নিচ্ছেন না। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন বলছে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কোচিং সেন্টারগুলোকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, জেলা শহরের হাটিরপাড়, হাসপাতাল পাড়া ও খেজুরের তল এলাকার স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার কোচিং একাডেমি, ক্রিয়েটিভ এডুকেশন এরিন্যা, প্রোগ্রেস কোচিং সেন্টার, নিউ ন্যাশনাল কোচিং সেন্টারসহ শহরের সব কোচিং সেন্টার তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকাল বেলা তারা পাঠদান অব্যাহত রেখেছে।

এ ব্যাপারে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার কোচিং একাডেমির পরিচালক আলী আহম্মেদ খন্দকার বলেন, ‘আমরা কোচিং সেন্টার খোলা রাখলেও শুধু এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি।’

এতেও সরকারি নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘কুড়িগ্রামে তো কোনও প্রশ্ন ফাঁস হয় না।’

হাসপাতাল পাড়ায় অবস্থিত প্রোগ্রেস কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কিছু মানবিক কারণে আমরা কোচিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। জেএসসির মেজর বিষয়গুলোর পরীক্ষা চলাকালে আমরা কয়েকদিন কোচিং বন্ধ রেখেছিলাম। তবে এখন কোচিং চলছে।’

এটা সরকারি নির্দেশ অমান্য কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এই পরিচালক বলেন, ‘এটা সরকারি নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে আমরা জেএসসি পর্যায়ের কোনও শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছি না। পরীক্ষা শুরুর আগেই আমরা তাদের বিদায় দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) মো. শামছুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি ছুটিতে আছি। বর্তমানে যিনি দায়িত্বে আছেন, তাকে খোঁজ নিতে বলবো।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, ‘কোচিং সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে কিনা, তা খোঁজ নিয়ে দেখবো। কোনও কোচিং সেন্টার যদি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তাদের কার্যক্রম চালায়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর আগেই সব কোচিং সেন্টারকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ কোচিং সেন্টার খোলা রেখে কার্যক্রম চালায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গত ১৩ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠকে দেশজুড়ে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোচিংয়ের বিষয়ে কঠোর থাকতে হবে। কারণ তারা কোনও কিছুর ধার ধারে না। সব ধরনের কোচিং বন্ধ থাকবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য