চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বী উইঘুর নারীদের জোরপূর্বক শয্যাসঙ্গী করছে চীনের সরকারী কর্মকর্তারা। এসব উইঘুর নারীদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রেখেছে চীন সরকার। এই সুযোগে তাদের পরিবারের উপর নজরদারির নামে নারীদের শয্যাসঙ্গী করা হচ্ছে। খবর যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট’র।

রেডিও ফ্রি এশিয়া এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চীনের কমিউনিস্ট দলের নেতারা নজরদারির নামে উইঘুর সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত রাত্রিযাপন করছে।

নজরদারির নামে চীনে এখন যা করা হচ্ছে তা উইঘুর সম্প্রদায়কে পদ্ধতিগতভাবে দমন নিপীড়ন বলে উল্লেখ করেছে ইন্ডিপেনডেন্ট।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, চীনে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের নামে বিভিন্ন ক্যাম্পে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে আটকে রাখা হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ।

ক্যাম্পের বাইরে থাকা উইঘুরদেরও নজরদারির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা পরিচয়পত্র ছাড়া চলাফেরা করতে পারছেন না, তল্লাশি করা হচ্ছে যত্রতত্র এবং সবাইকে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

গত বছরের গোঁড়ার দিক থেকে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন নামে এক ধরণের প্রোগ্রাম চালু করেছে দেশটির কমিউনিস্ট সরকার। এই প্রোগ্রাম অনুযায়ী উইঘুর পরিবারে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাতে হয়। আমন্ত্রণ অনুযায়ী কর্মকর্তারা উইঘুরদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সামগ্রিক জীবনাচরণ পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে। এমনকি তাদের সাথে একই বিছানায় রাত্রি যাপন করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উইঘুরদের উপর সরকারের এমন আচরণকে ভয়াবহ আগ্রাসন বলে উল্লেখ করেছে।

সপ্তাহখানেক আগে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যসহ ২৩টি দেশ উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীন সরকারের দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা চীনের প্রতি উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর আহবান জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য