দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জে আগাম শীতের আগমনে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা।

উত্তরের এই উপজেলায় ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে শীত। ভোরবেলা কুয়াশা জমে থাকছে ঘাসে আর লতা-পাতায়। রাতে কিছুটা শীত অনুভূত হচ্ছে। পুরোপুরি শীতের শুরু না হলেও অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কার্তিক মাসে শীতের জন্ম হলেও অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ এই তিন মাস শীত মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়।

আর শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে হিঁড়িক পড়েছে লেপ-তোষক বানানোর দোকানে। ইতোমধ্যে কারিগররা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লেপ-তোষক বানানোর কাজে। ক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে উঠেছে লেপ-তোষক দোকান গুলোতে। বীরগঞ্জ উপজেলার লেপ-তোষকের এক কারিগর মোঃ নুর ইসলাম জানান, ক্রেতারা শীতের কথা মনে রেখে আগাম লেপ-তোষক বানাতে দিচ্ছেন।

তিনি জানান, একটি লেপ তৈরিতে একজন কারিগরের সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। এভাবে একজন কারিগর দিনে গড়ে ৫/৬টি লেপ তৈরি করতে পারেন। অনুরুপভাবে তোষক তৈরিতেও একই সময় ব্যয় হয়। বর্তমান বাজারে লেপ ও তোষক তৈরি খরচ প্রায় ১ হাজার টাকা হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।তবে আকার ভেদে তারতম্য হয়।

তুলা ব্যবসায়ী কিতাব আলী জানান, শীত মৌসুমের পুরো তিন মাস কারিগররা যে হারে লেপ-তোষক, গদি তৈরিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করে বছরের অন্য সময় তা হয় না। বছরের প্রায় ৮মাস তাদের অনেকটা অলস সময় কাটাতে হয়। কেউ কেউ ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়। ক’দিন ধরে আগাম শীতের আগমন বার্তায় প্রতিদিনই লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার বেড়ে গিয়েছে।

তাই অর্ডারি লেপ-তোষক তৈরিতে এখন কারিগররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একেকজন কারিগর দিনে প্রায় ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা উপার্জন করে থাকেন। তিনি আরো জানান, তুলার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লেপ-তোষক, গদি তৈরিতে খরচ গত বছরের চেয়ে একটু বেড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে কেনা-বেচা ভালই হচ্ছে। শীতের তীব্রতা যতো বাড়বে বেচাকেনা আরো জমবে বলে আশা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য