দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জে ভূয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে জেডিসি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে মোঃ মতিয়ার রহমান (৩৮) নামে এক মাদরাসার সুপারের ১ বছরের কারাদ- ও ১ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। মোঃ মতিয়ার রহমান উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের নাগরী সাগরী গ্রামের মৃত খেরাজ উদ্দিনের ছেলে এবং শতগ্রাম ইউনিয়নের করিমপুর পুলহাট দাখিল মাদরাসার সুপার।

গতকাল ৪ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়ামিন হোসেন ভ্রাম্যমান আদালতে এ রায় প্রদান করেন।

বীরগঞ্জ থানার এসআই মোঃ নুরুল হক নাগরগঞ্জ দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে দিয়ে করিমপুর পুলহাট দাখিল মাদরাসার সুপার জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন বীরগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিলে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেন।

পরে সুপারকে ফোনে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুপার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এ অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের বিজ্ঞ বিচারক করিমপুর পুলহাট দাখিল মাদরাসার সুপার মোঃ মতিয়ার রহমানকে ০১ বছরের জেল ও ১,০০০/- টাকার জরিমানার রায় প্রদান করেন।

বীরগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মোঃ আবুল কাশেম জানান মঙ্গলবার সকালে আরবি ১ম পত্র পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়ামিন হোসেন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে করিমপুর পুলহাট দাখিল মাদরাসা হতে জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তিন শিক্ষার্থী মোঃ সাব্বির হোসেন, রোল নং-২৪৪৯১৯, মোঃ রিপন আলী, রোল নং-২৪৪৯১৮, মোঃ হোসাইন ইসলাম, রোল নং-২৪৪৯১৭ কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সঠিক উত্তর দিতে ব্যার্থ হয়।

এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সন্দেহ হলে তিনি ঐ মাদরাসার সুপারকে ডেকে এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ভূয়া পরীক্ষার্থী হিসাবে ঐ তিন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইয়ামিন হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান পাশের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে অন্য মাদরাসার শিক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে ঐ সুাপারকে জেল জরিমানা প্রদান করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য