শেষ পর্যন্ত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার জাতিসংঘকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে। এদিকে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। খবর বিবিসি’র।

আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এর আগে ২০১৭ সালের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ট্রাম্পের যুক্তি, প্যারিস চুক্তি মার্কিন স্বার্থ বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকারী একটি নতুন পরিবেশ চুক্তি করতে তিনি তখন আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে নতুন করে জলবায়ু চুক্তি সম্পাদন সম্ভব নয় বলে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে।

বিশ্বের মোট নিঃসরণ কৃত কার্বনের ১৫ শতাংশের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই দায়ী। তাছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলা করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তাকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যাপি।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। এই সিদ্ধান্ত জলবায়ু ও জীব-বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে ফান্স-চীন অংশীদারিত্বের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে’।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের স্পিকার নেন্সি পেলোসি এই সিদ্ধান্তকে ‘শিশুদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেওয়ার মতো ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিবেশকর্মী আর গোর এই সিদ্ধান্তকে ‘নিজেদের স্বার্থে বিশ্বকে বলিদান’ বলে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ফান্সের প্যারিসে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮ টি দেশ জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনা এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমপক্ষে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য