দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে ছাত্রীটি অন্ত:সত্বা বলে দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি জানাজানি হলে পালিয়ে যাবার সময় অভিযুক্ত মো: আমিনুল ইসলাম (৩৫)কে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের পাল্টাপুর মাঝাপাড়া গ্রামের মৃত হাসিম উদ্দিনের ছেলে মো: আমিনুল ইসলাম (৩৫) পাল্টাপুর মাদরাসার সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৫)কে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়য়টি পরিবারকে জানায়। পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: আজাদকে অবহিত করে।

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: আজাদ বিষয়টি সত্যতা যাচাই এবং আইনি পরামশের্র লক্ষ্যে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শুক্রবার স্থানীয় ভাবে আলোচনার আয়োজন করে। কিন্তু শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত মো: আমিনুল ইসলাম পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে বীরগঞ্জ থানার এসআই আলন চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মো: আমিনুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এর আগে এ ধরণের আরও একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করে বলেন, শুধু টাকার জোরে সে আইনকে বৃদ্ধাংগুলি প্রদর্শন করে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে।

ছাত্রীর বাবা জানান, অভিযুক্ত মো: আমিনুল ইসলাম তার প্রতিবেশী এবং দূর সম্পর্কে মামা শ্বশুর। আত্মীয়তার সুত্রধরে আমিনুল ইসলামের বাড়ীতে তার মেয়ের যাতায়াত। এক সপ্তাহ পুর্বে মেয়েটি তার মাকে বিষয়টি খুলে বললে বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: আজাদকে জানিয়েছেন। এরপর থেকে তাদের পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি জানান।

বীরগঞ্জ থানার এসআই আলন চন্দ্র রায় জানান, সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

বীরগঞ্জ থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ সাকিলা পারভিন জানান, এ ব্যাপারে ছাত্রীটির বাবা বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে।মামলা নং-১,তাং-০১/১১/১৯।অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রীটির শারিরিক পরীক্ষা এবং অভিযোগের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে। বাদী যেন দ্রুত ন্যায় বিচার পান আমরা সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য