কুয়েতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে দাস কেনাবেচার বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশের পর দেশটির প্রশাসন ওই সব একাউন্টের কয়েকজন মালিকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।

বিবিসি নিউজ (আরবি) জানায়, কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে দাস কেনা-বেচা হয়। গুগল, অ্যাপেল এবং ইন্সটাগ্রাম থেকে ওই অ্যাপগুলো ব্যবহার করা যায়।

ওই সব অ্যাপের মধ্যে #মেইডস ফর ট্রান্সফার বা #মেইডস ফর সেল এর মাধ্যমে গৃহকর্মের জন্য কালোবাজারে নারীদের দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিবিসির ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কুয়েত কর্তৃপক্ষ দাস কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ডেকে এনে দাস বিক্রির বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এছাড়া, তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইনী কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করেছে।

বিবিসি জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে ইন্সটাগ্রাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারও তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে করা দাস বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইন্সটাগ্রাম কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা তাদের ফেইসবুক এবং ইন্সটাগ্রাম থেকে দাস কেনা-বেচা সংক্রান্ত সব পোস্ট মুছে দিয়েছে এবং নতুন করে কেউ যেন এ ধরনের একাউন্ট তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

কুয়েতের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ডা. মুবারক আল-আজিমি বলেন, বিবিসির প্রতিবেদনে যে নারীকে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে দাস হিসেবে বিক্রির কথা বলতে শোনা যায় পুলিশ তাকে খুঁজছে। গিনির নাগরিক ওই কিশোরীকে ‘ফাতোউ’ নামে ডাকতে শোনা যায়।

বিবিসির প্রতিবেদনে এক পুলিশ কর্মকর্তাকেও দেখানো হয়েছে। দাস বেচা-কেনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তদন্ত চলছে।

দাস বেচা-কেনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার এবং তাদের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

গুগল এবং অ্যাপল কর্তৃপক্ষও তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এ ধরণের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে অ্যাপ ডেভেলপারদের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য