দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ভারত পেঁয়াজের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহার না করায়, পর্যাপ্ত উৎপাদন না হওয়ায় দেশে পেঁয়াজ আমদানি সংকট এবং মৌসুমের শেষে ঘোড়াঘাট সহ দিনাজপুরে এখন পেঁয়াজের বাজার বেপরোয়া ভাবে বেড়েই চলেছে। পেঁয়াজের ঝাঁজ কোনো ভাবেই কমছে না। বেকায়দায় পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।

হত দরিদ্র অসহায় মানুষের এখন নাভীশ্বাস উঠেছে। সরকারের মিশর থেকে আরও এক মাস পেঁয়াজ আমদানী করতে বিলম্ব হবে। নিরভর করতে হবে মিশর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের উপর। এ কারণে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সাধারণ ক্রেতারা। দিনাজপুরে ৩ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

৩দিন আগেও গত সোমবার ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজারে প্রতি কেজি দেশীয় পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক মাস আগে ভারত সরকার পেঁয়াজ আমদানীর উপর নিষেধাজ্ঞা করে বন্ধ করে দেয়। নভেম্বর মাসে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানীর উপর নিষেধ্জ্ঞাা প্রত্যাহার করলে এলসি ব্যবসায়ীরা সেপ্টেম্বর মাসের এলসি করা ৩ হাজার ৫০০ মেঃটন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করতে পারে।

এতে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হতে পারে বলছেন ব্যবসায়ীরা। এখন নির্ভর করতে হচ্ছে পাবনায় উৎপাদিত পেঁয়াজের ওপর। বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা তাহসিন বলেন, প্রতিদিন বাড়াছে পেঁয়াজের দাম বাজারে কোনও ধরণের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। সরকার পেঁয়াজের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছেনা। এখন নির্ভর করতে হচ্ছে পাবনা ও মায়ানমারের পেঁয়াজের ওপর।

মায়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে, আর পাবনার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। পেঁয়াজের চাহিদা বেশি আমদানী কম থাকায় বেশি দামে কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। সূত্র জানায়, হিলির আমাদানিকারকদের গুদামে পেঁয়াজ মজুদ নেই।

হিলি পেঁয়াজ আমদানীকারকরা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ সংকট ও মূল্য বিদ্ধির কারন দেখিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর অনির্দিষ্টকালের জন্য পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ভারত আমদানী বন্ধ করার পূর্বে খোলা এলসিতে এক হাজার মেঃটন পেঁয়াজ রপ্তানি করে।

অবশিষ্ট পেঁয়াজ দূর্গা পূজার ছুটি শেষে রপ্তানির কথা বললেও শুধু তার নামের ৫১ মেঃটন পেঁয়াজ রপ্তানি করে। হিলি বন্দর দিয়ে বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানি একেবারে বন্ধ হয়ে গছে।

এখনো হিলির এলসি আমদানিকারকের সেপ্টেম্বর মাসের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেঃটন এলসি রয়েছে। আরও ২ হাজার মেঃটন পেঁয়াজের এলসি করা পেঁয়াজ নিয়ে সে দেশের হাই কোটে রিট করা হয়েছে। সেগুলোর বিপরীতে হয়তো পেঁয়াজ রপ্তানি করলেই দাম কমতে শুরু করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য