বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রায় তিন মাস পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে দুটো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করেছে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে। এ দু’টো অঞ্চলের একটি হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর এবং অন্যটি চীন সীমান্তবর্তী লাদাখ।

দুটি অঞ্চলই এখন থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে। এর মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নতুন ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার গিরিশ চন্দ্র মুরমু কাশ্মীর অঞ্চলের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব রাধা কৃষ্ণ মাথুর।

এখন থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকবে কেন্দ্রের হাতে, এবং এখানকার জমি সেখানে নির্বাচিত সরকারের অধীনে থাকবে। লাদাখও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকবে যা পরিচালনা করবেন সেখানকার লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

জম্মু ও কাশ্মীর দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে রাজ্যের সংখ্যা কমে দাঁড়াল ২৮ এ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা বেড়ে ৯ হল। পুদুচেরির মতোই জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা থাকবে, কিন্তু চণ্ডীগড়ের মতো লাদাখে কোনও বিধানসভা থাকবে না।

বুধবার মধ্যরাত থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাছাড়া, অবিভক্ত জম্মু ও কাশ্মীরের উপর আরোপ করা রাষ্ট্রপতি শাসন বাতিলের কথাও এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ভারত।

কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ অগাস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলুপ্ত করে এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। এতদিনে তারা সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল।

এ পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের লোকেরা ভারতের অন্যান্য অংশের মতো একই সাংবিধানিক সুবিধা পাবে এবং এখানকার উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে যুক্তি দেখিয়েছে সরকার।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিনকে স্মরণীয় করতেই জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে যাত্রা শুরু করল ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ থেকে।

বল্লভভাই প্যাটেলের ১৪৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুজরাটে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ আজ থেকে একটি নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য