জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগ্রাম জেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় পাঁচ শ্রমিক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবারের এ ঘটনায় হতাহতদের সবাই পশ্চিম বঙ্গ থেকে সেখানে গিয়েছিলেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

ওই শ্রমিকরা পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘি এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা কুলগ্রামের স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেখানেই তাদের ওপর হামলা হয়।

পুলিশের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, সাগরদিঘির বহালনগর গ্রাম থেকে আপেল বাগানে কাজ করতে কাশ্মীরে যাওয়া প্রায় ১৫ জনের একটি দল কুলগ্রামের কটরাসু গ্রামে একটি কাঠের বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাদের কয়েক জনকে ঘর থেকে বের করে এনে তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে পাঁচ জন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হন।

নিহত কামরুদ্দিন শেখ, মুরসালিম শেখ ও রফিকুল শেখ ৩০ বছর বয়সী এবং রফিক শেখ ও নইমুদ্দিন শেখ ২৮ বছর বয়সী বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

আহত জহিরুদ্দিনকে অনন্তনাগ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ কাশ্মীর পুলিশের ডেপুটি মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে একটি পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে বলে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক দিলবাগ সিং এনডিটিভিকে জানিয়েছেন।

পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “কাশ্মীরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা মর্মাহত ও গভীরভাবে শোকাচ্ছন্ন। মুর্শিদাবাদ থেকে যাওয়া পাঁচ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। কথা দিয়ে নিহত পরিবারগুলোর শোক দূর করা যাবে না। এই শোচনীয় পরিস্থিতিতে ওই পরিবারগুলোকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

আনন্দবাজার বলেছে, ভারত সরকারের উদ্যোগে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের বাছাই করা কিছু সদস্যের কাশ্মীর সফরের দিনই হামলাটি চালানো হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত বাহিনীও পাঠানো হয়েছে।

এর আগেরদিন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অনন্তনাগ জেলায় একজন ট্রাক চালককে গুলি করেছিল ও সোপোর জেলায় বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ লোকজনের দিকে গুলি ছুড়েছিল। ওই দিন বিকালে পুলওয়ামা জেলার একটি স্কুলে মোতায়েন ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিল তারা।

৫ অগাস্ট জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে কেন্দ্র শাসিত দুটি প্রশাসনিক এলাকায় ভাগ করার ঘোষণা দেয় নয়া দিল্লি। তারপর থেকে কাশ্মীরকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ১৪ থেকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে অন্য রাজ্যগুলো থেকে আসা অন্তত চার জন ট্রাক চালককে গুলি করে হত্যা করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য