মনিপুরের ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিকরা মঙ্গলবার ভারত থেকে রাজ্যটির স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ব্রিটেনে তারা একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেছেন। কয়েক দশক ধরে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে মনিপুর রাজ্যের স্বাধীনতাকামীরা। খবর আল- জাজিরার।

লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে মনিপুর রাজ্য পরিষদের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামবেন বিরেন এবং মনিপুর রাজ্য পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী নরেংবাম সমরজিত স্বাধীনতা ঘোষণা ছাড়াও প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।

ওই দুই নেতা দাবি করেন, তাদের এ ঘোষণা রাজা লেইশেমবা সানাজাওবার পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে।

নরেংবাম সমরজিৎ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রবাসী সরকার জাতিসংঘের স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে। আমরা এখানে এই আইনসম্মত (ডি জুরে) সরকার পরিচালনা করব…আজকে থেকে।’

এছাড়া সমরজিৎ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতিসংঘের সদস্য হতে আমরা বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি চাইবো। আমরা মনে করি, অনেক দেশই আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে।’

দুই এই নেতা আরো জানান, ভারতে থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তারা হয়তো গ্রেফতার হতে পারেন। এমনকি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের হত্যা করতে পারে।

এদিকে এ বিষয়ে এখন পরযন্ত যুক্তরাজ্যে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে কিংবা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মুখ খোলেননি মনিপুরী রাজাও।

ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৪৯ সালে মনিপুরকে অঙ্গীভূত করে নেয় ভারত। কিন্তু এরপর থেকে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে মনিপুর রাজ্য।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কথিত ‘সেভেন সিস্টার্স’ গ্রুপের রাজ্যগুলোর একটি মনিপুর। মনিপুরের বাসিন্দা প্রায় ২৮ লাখ। তাদের প্রায় সবাই স্থানীয় মনিপুরী নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য